পাকিস্তানে রয়েছে দেবীর একমাত্র শক্তিপীঠ, রক্ষা করে খোদ বালোচ বাসিন্দারা

দেশজুড়ে চলছে চৈত্র নবরাত্রি। বাংলায় যা পালিত হয় বাসন্তী পুজো উপলক্ষে। মন্দিরে মন্দিরে দেখা যাচ্ছে ভক্তদের লম্বা লাইন। দেবীর শক্তিপীঠগুলিতে ভক্তদের লাইন আরও লম্বা। আদি দেবীর শক্তিপীঠ রয়েছে মোট ৫১টি।

Advertisement
পাকিস্তানে রয়েছে দেবীর একমাত্র শক্তিপীঠ, রক্ষা করে খোদ বালোচ বাসিন্দারাপাকিস্তানে রয়েছে দেবীর একমাত্র শক্তিপীঠ
হাইলাইটস
  • আদি দেবীর শক্তিপীঠ রয়েছে মোট ৫১টি।
  • পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে হিংলাজ শক্তিপীঠ রয়েছে।
  • ই শক্তিপীঠটি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতির এক উদাহরণ।

দেশজুড়ে চলছে চৈত্র নবরাত্রি। বাংলায় যা পালিত হয় বাসন্তী পুজো উপলক্ষে। মন্দিরে মন্দিরে দেখা যাচ্ছে ভক্তদের লম্বা লাইন। দেবীর শক্তিপীঠগুলিতে ভক্তদের লাইন আরও লম্বা। আদি দেবীর শক্তিপীঠ রয়েছে মোট ৫১টি। এরমধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে একটি শক্তিপীঠ রয়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে হিংলাজ শক্তিপীঠ রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এটি নানির দরগাহ নামেও পরিচিত। এর নামকরণ হিংলাজ, কারণ এটি মাতৃদেবীর লজ্জাময় রূপের প্রতীক। এই শক্তিপীঠটি ভারত সহ সারা বিশ্বের অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বলা হয় যে, মাতৃদেবীর এই শক্তিপীঠটি জাতি-ধর্মের বাধা থেকে মুক্ত। তাই, এই শক্তিপীঠটি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতির এক উদাহরণ।

হিং মানে উগ্র রূপ এবং লাজ মানে লজ্জা। কিংবদন্তী অনুসারে, দেবাদিদেব শিবের বুকে পা রেখে ফেলে দেবী শক্তি লজ্জিত হয়েছিলেন। তাই, উগ্রতা ও লজ্জা- এই দুটি শব্দের সংমিশ্রণে দেবীর নাম রাখা হয়েছিল হিংলাজ। বলা হয়, এই শক্তিপীঠ দর্শন করা চার ধাম তীর্থযাত্রার সমতুল্য। যেমন জীবনে একবার প্রয়াগের সঙ্গমস্থলে স্নান, গঙ্গায় তর্পণ এবং চার ধাম তীর্থযাত্রা অপরিহার্য, তেমনই হিংলাজ ভবানী দর্শনও অপরিহার্য।

শ্রী দুর্গা চালিশায় মা হিংলাজ ভবানী-র উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে মা হিংলাজ ভবানী-র মহিমা লিখে বর্ণনা করা যায় না।

পৌরাণিক কাহিনী: সতীর পিতা দক্ষ রাজা ভগবান শিবকে অপছন্দ করতেন। এক যজ্ঞস্থলে তিনি সতীর সামনেই ভরা সভায় শিবকে অপমান করেন। পিতার এই কাজে সতী যজ্ঞের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দেন। এরপর ভগবান শিব নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সতীর শবদেহ নিয়ে ত্রিভুবনে ঘুরতে করতে থাকেন। তাঁকে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র ব্যবহার করেন। সুদর্শন চক্রের আঘাতে সতীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

সতীর দেহের অংশগুলি যেখানে পড়েছিল, সেই জায়গাগুলিতে শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। সতীর মাথার পেছনের অংশ হিঙ্গোল নদীর তীরে চন্দ্রকূট পর্বতে পড়েছিল। আজ, ঠিক এই স্থানেই হিংলাজ ভবানী শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংস্কৃতে সিঁদুরের জন্য ‘হিঙ্গুলা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই কারণেই বিবাহিত মহিলারা এই শক্তিপীঠকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

Advertisement

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত এই শক্তিপীঠটির দেখভাল করে বেলুচ জনগণই। এই শক্তিপীঠের প্রতি তাদেরও গভীর বিশ্বাস রয়েছে। তারা এটিকে একটি অলৌকিক ও পবিত্র স্থান বলে মনে করেন। ঐতিহাসিকদের অনুমান, এখানকার মন্দিরটি প্রায় ২,০০০ বছর পুরোনো।  সিন্ধু ও করাচি প্রদেশ থেকেও হাজার হাজার হিন্দু এই স্থানটি দর্শন করতে আসেন।

 

POST A COMMENT
Advertisement