নতুন বছরে পুণ্যস্নানের দিন,তারিখ জেনে নিনহিন্দু ধর্মে কিছু শুভ দিন রয়েছে, যে দিনগুলিতে পবিত্র স্নান করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র অনুসারে, এই দিনগুলিতে পবিত্র নদীতে মনে বিশ্বাস নিয়ে স্নান করলে শুধু শরীর ও মনকে পবিত্র করে না। বরং পাপ বিনাশ এবং মোক্ষ অর্জনেও সহায়তা করে। মকর সংক্রান্তি, মাঘ পূর্ণিমা, গঙ্গা দশেরা এবং কার্তিক পূর্ণিমা হল এমন কিছু শুভ তিথি যেখানে পবিত্র নদীতে স্নান করাকে শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে এই দিনগুলি কবে রয়েছে? দেখে নিন
মকর সংক্রান্তি স্নান: এই বছর মকর সংক্রান্তি পড়েছে ১৪ জানুয়ারি। এই দিনে পবিত্র স্নানের বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে সূর্যদেব উত্তর দিকে অগ্রসর হন, যা বায়ুমণ্ডলে ইতিবাচক শক্তি নিয়ে আসে। বিশ্বাস করা হয়, পবিত্র নদী বা তীর্থস্থানে স্নান করলে শরীর ও মন উভয়ই পবিত্র হয়।
মৌনী অমাবস্যা: ১৮ জানুয়ারি এ বছর মৌনী অমাবস্যা পড়েছে। মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথিকেই মৌনী অমাবস্যা বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে গঙ্গার জল অমৃতের মতো হয়ে যায়। তাই, এই দিনে গঙ্গায় পবিত্র স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। বলা হয়, মৌনী অমাবস্যায় গঙ্গায় স্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং মোক্ষলাভ হয়।
মাঘী পূর্ণিমায় স্নান: মাঘ মাসের পূর্ণিমায় পবিত্র স্নান করাকে সনাতন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমায় স্নান করার পর তিল, খাবার, পোশাক, ঘি এবং কম্বল দান করলে পুণ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
গঙ্গা দশেরা : এই দিন পড়েছে ২৫ মে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রধান উৎসব গঙ্গা দশেরা। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মা গঙ্গা স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন। এই দিনে গঙ্গায় স্নান, দান এবং পূজা করলে ১০ ধরনের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কার্তিক পূর্ণিমা স্নান: কার্তিক পূর্ণিমায় পবিত্র নদীতে স্নান করাকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। এই স্নান পাপ ধুয়ে দেয় ও আত্মাকে পবিত্র করে। এই দিনে প্রদীপ জ্বালানো এবং দানশীলতামূলক কাজ করাও বিশেষভাবে ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হয়। কার্তিক পূর্ণিমা দেব দীপাবলি নামেও পরিচিত। এই বছর এই স্নানের তারিখ পড়েছে ২৪ নভেম্বর।