প্রতীকী ছবি বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব দিককে শুধু পুজোর স্থানই নয়, বুদ্ধি, জ্ঞান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এই দিকের যে কোনও বাস্তু ত্রুটি সরাসরি একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। যখন বুদ্ধি প্রভাবিত হয়, তখন একজন ব্যক্তি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কখনও কখনও, অপ্রয়োজনীয় সমস্যা দেখা দেয় এবং ব্যক্তি সমস্যার মূল কারণ বুঝতে পারে না।
উত্তর-পূর্ব কোণ পরিষ্কার রাখুন
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, উত্তর-পূর্ব কোণে মন্দির থাকুক বা না থাকুক, এই স্থানটি হালকা, পরিষ্কার এবং খোলা থাকা অপরিহার্য। এই দিকটি যত পরিষ্কার এবং গোছানো থাকবে, একজন ব্যক্তির বুদ্ধি তত তীক্ষ্ণ হবে এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তত শক্তিশালী হবে।
উত্তর-পূর্ব কোণে এই রং ব্যবহার করুন
উত্তর-পূর্ব কোণে সবচেয়ে বড় বাস্তু ত্রুটি হিসেবে রান্নাঘর, শৌচাগার, গুদামঘর বা অতিরিক্ত লাল রঙের ব্যবহারকে বিবেচনা করা হয়। অল্প পরিমাণে হালকা হলুদ রঙ গ্রহণযোগ্য, কিন্তু অতিরিক্ত হলুদ বুদ্ধি ভোঁতা করে এবং অতিরিক্ত লাল রাগ ও বিরক্তি বাড়ায়। এই দিকে গুদামঘর থাকলে পরিবারে মানসিক চাপ এবং সম্পর্কের মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, এই ধরনের বাড়িতে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা মানসিক ভারসাম্যহীনতায়ও ভুগতে পারে।
উত্তর-পূর্ব কোণ এবং মন্দির সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বাস্তু নিয়ম
১. উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত মন্দিরে অতিরিক্ত লাল রঙের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। দেবতার পোশাক ছাড়া দেয়াল বা সজ্জায় লাল রঙ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
২. এই দিকে হালকা নীল, সবুজ, সাদা বা ক্রিম রং শুভ বলে মনে করা হয়। উত্তর-পূর্ব কোণ মন্দিরের জন্য সেরা দিক, কিন্তু এখানে মন্দির না থাকলেও, স্থানটি পরিষ্কার এবং খালি রাখুন। দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মন্দির তৈরি করা উচিত নয়।
৩. পুজো করার সময় মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকা উচিত। দেবতার মূর্তি পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ করে রাখুন।
৪. মন্দিরে অতিরিক্ত সজ্জার জিনিসপত্র এড়িয়ে চলুন। এটিকে সাধারণ, পরিষ্কার এবং গোছানো রাখুন। ভাঙা মূর্তি বা ছেঁড়া ছবি রাখবেন না।
৫. মন্দিরটি ভালভাবে আলোকিত হওয়া উচিত। ধূপকাঠি বা প্রদীপের ধোঁয়া যেন ভারী পরিবেশ তৈরি না করে।
৬. পুজো-অর্চনায় ব্যবহৃত জিনিসপত্র, যেমন প্রদীপ, ঘণ্টা এবং মালা, শুধুমাত্র পুজোর কাজেই ব্যবহার করুন। মন্দিরের কাছে কোনও শৌচাগার বা সিঁড়ি থাকা উচিত নয়।
৭. মন্দিরে বাসি ফুল বা পুরনো প্রসাদ রাখবেন না।