জন্মাষ্টমী কবে? Janmashtami 2026: শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উৎসব যতই এগিয়ে আসছে, ভক্তরা এর শুভ সময় সম্পর্কে জানতে ততই কৌতুহলী হয়ে উঠছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীতে রোহিণী নক্ষত্রে মধ্যরাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই জন্মাষ্টমীর রাত্রিকালীন পুজো ও উদযাপনকে বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই বছর জন্মাষ্টমীর তারিখের পাশাপাশি মথুরা এবং বৃন্দাবনে অনুষ্ঠিত হতে চলা উৎসব নিয়েও সকলে জানতে আগ্রহী।
জন্মাষ্টমী কবে?
পঞ্জিকা অনুসারে, এই বছর শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে। অষ্টমী তিথি ৪ সেপ্টেম্বরের রাতে শুরু হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে শেষ হবে। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান কৃষ্ণ মধ্যরাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই মূল জন্মাষ্টমী পুজো ৪ সেপ্টেম্বর রাতে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মাষ্টমীর তারিখ ভিন্ন হতে পারে। বৈষ্ণব ধর্ম এবং কিছু মন্দির ঐতিহ্যে ৫ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী পালন করা হতে পারে। তাই উপোস করলে ভক্তদের নিজ নিজ স্থানীয় পঞ্জিকা বা মন্দিরের ঐতিহ্য মেনেই করা উচিত।
মথুরায় মধ্যরাতে জন্মাষ্টমী পালন
ভগবান কৃষ্ণের জন্মস্থান মথুরায় জন্মাষ্টমী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। মন্দিরগুলিতে দিনভর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভগবানের জন্ম স্মরণে রাতে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে শ্রীতৃষ্ণ জন্মভূমি চত্বরে জন্মাষ্টমীর মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ভগবানের জন্মদৃশ্য, অভিষেক, আরতি এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এই বছর মথুরায় জন্মাষ্টমীর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বৃন্দাবনেও জন্মাষ্টমী উৎসব
মথুরার পাশাপাশি বৃন্দাবনেও মহা ধুমধাম ও জাঁকজমকের সঙ্গে জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়। মন্দিরগুলিতে ভগবান কৃষ্ণের শিশু রূপের উদ্দেশে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। ভক্তরা রাতে দর্শন এবং ভজন-কীর্তনের জন্য মন্দিরগুলিতে যান।
বৃন্দাবন ও ব্রজ অঞ্চলে জন্মাষ্টমীর পরের দিন পালিত নন্দোৎসবের ঐতিহ্যটি বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান কৃষ্ণের জন্ম উদযাপন করতে নন্দ বাবার বাড়িতে এই দিনটি পালন করা হয়।
জন্মাষ্টমীর নিশীথ পুজোর সময়
জন্মাষ্টমীর পুজোয় নিশীথ কালকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, কারণ এই সময়ে ভগবান কৃষ্ণের জন্মোৎসব করা হয়।
মথুরার পঞ্জিকা অনুসারে, নিশীথ পজোর সময় ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৬ মিনিট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ে ভক্তরা ভগবান কৃষ্ণের অভিষেক, পুজো ও আরতি করতে পারবেন।
রোহিণী নক্ষত্রেরও কাকতালীয় সংযোগ
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অষ্টমী মাসের অষ্টম তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই জন্মাষ্টমীর গণনায় রোহিণী নক্ষত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর রোহিণী নক্ষত্র পড়বে। পঞ্জিকা অনুসারে, ৪ সেপ্টেম্বর রোহিণী নক্ষত্র রাত ১২টা ২৯ মিনিট থএকে রাত ১১টা ৪ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
জন্মাষ্টমীতে কখন উপোস ভাঙবেন?
যাঁর জন্মাষ্টমীর উপোস পালন করেন, তাঁদের জন্য উপোস ভঙ্গের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্জিকা অনুসারে, ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের পর উপোস ভঙ্গ করতে হয়। মথুরার জন্য পঞ্জিকা অনুযায়ী, উপোস ভঙ্গের সময় হল সকাল ৬টার কাছাকাছি।
তবে কিছু মানুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পুজো করার পর মধ্যরাতে উপোস ভঙ্গ করেন। সম্প্রদায় ও স্থানীয় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে উপোস ভঙ্গের এই রীতি ভিন্ন হতে পারে।
জন্মাষ্টমী পুজোর সময় কী করবেন?
জন্মাষ্টমীর সকালে স্নানের পর ভগবান কৃষ্ণের শিশু রূপের পুজো করার সংকল্প করা হয়। ভক্তরা নিজ নিজ বিশ্বাস অনুসারে উৎসব পালন করেন। রাতে নিশীথ পর্বে লাড্ডু গোপালকে পঞ্চামৃত মাখানো হয় এবং নতুন বস্ত্র পরানো হয়।
এরপর ভগবান কৃষ্ণকে মাখন ও মিছরি, ফল এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। জন্মের সময়ে শঙ্খধ্বনি করা হয় এবং আরতি করা হয়। ভগবান কৃষ্ণকে দোলনায় দোল দেওয়ারও একটি প্রথা রয়েছে।