জন্মাষ্টমীর পুজো কখন করবেন? জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঘরে ঘরে আয়োজন হয়েছে গোপালেন পুজোর। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল মধ্যরাতে। তাই জন্মাষ্টমীর পুজোর ক্ষেত্রে রাতেই হয় পুজো। নিশীথকালকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয় এই পুজোর ক্ষেত্রে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই লাড্ডু গোপালের অভিষেক এবং আরাধনা করলে ভক্তি ও প্রার্থনার বিশেষ মাহাত্ম্য বজায় থাকে। হাতেনাতে মেলে সুফলও। এবারের জন্মাষ্টমী পুজোর শুভ মুহূর্ত কখন?
এবারের জন্মাষ্টমীর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ এ বছর অষ্টমী তিথির সঙ্গে রোহিণী নক্ষত্রের বিশেষ যোগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রোহিণী নক্ষত্রেই মধ্যরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। এমন সংযোগ প্রায় ১৫ বছর পর দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর অধিকাংশ জায়গায় জন্মাষ্টমী পালন করা হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে এদিন রাত ২টো ২৫ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৩ মিনিটে। উদয় তিথির হিসাব অনুযায়ী এদিন মধ্যরাতেই মূল উৎসব পালিত হবে। তাই উপোস বা বিশেষ আচার পালনের ক্ষেত্রে শুভ মুহূর্ত জানা অত্যন্ত জরুরি।
কখন করবেন কৃষ্ণপুজো?
জন্মাষ্টমীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল নিশীথকাল।
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, এদিন রাত প্রায় ১১টা ৫৭ মিনিট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত নিশীথ পুজোর সময় থাকবে। অর্থাৎ, পঞ্জিকা অনুযায়ী রাত ১২টার আশপাশের এই নিশীথকালেই মূল পুজো করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই লাড্ডু গোপালের জন্মোৎসব, অভিষেক এবং আরতি করতে হবে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মমুহূর্তকে স্মরণ করে এই সময়ে নিষ্ঠাভরে পুজো ও প্রার্থনা করলে ভক্তরা তাঁর কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ করেন।
কীভাবে করবেন লাড্ডু গোপালের পুজো?
জন্মাষ্টমীর দিন সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরে পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে। বাড়ির ঠাকুরঘর পরিষ্কার করে লাড্ডু গোপালকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে।
মধ্যরাতে, দুধ, দই, মধু, ঘি ও জল দিয়ে পঞ্চামৃত স্নান করাতে হবে গোপালকে। এরপর গোপালকে নতুন বা পরিষ্কার পোশাক পরাতে হবে। মাখন, মিছরি, লাড্ডু, ফল ও সাত্ত্বিক নৈবেদ্য নিবেদন করতে হবে গোপালকে। শঙ্খ ও ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে আরতি করতে হবে। অনেক জায়গায় লাড্ডু গোপালকে দোলনায় বসিয়ে দোলানোর রীতিও রয়েছে। পুজো শেষে প্রসাদ পরিবারের সকলের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে।
কেন এত স্পেশাল এ বছরের জন্মাষ্টমী?
জন্মাষ্টমী প্রতি বছরই ভক্তদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এবারের বিশেষ আকর্ষণ অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের সংযোগ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল অষ্টমী তিথির মধ্যরাতে রোহিণী নক্ষত্রে। তাই একই ধরনের যোগ তৈরি হওয়ায় এবারের জন্মাষ্টমীকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই।
উপোস কখন ভাঙবেন?
জন্মাষ্টমীতে বহু ভক্ত উপোস করেন। সাধারণভাবে ৫ সেপ্টেম্বর সূর্যোদয়ের পর উপোস ভাঙার রীতি রয়েছে। তবে সম্প্রদায়, স্থানীয় পঞ্জিকা এবং পারিবারিক রীতি অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে। কেউ কেউ মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ও পুজো সম্পন্ন হওয়ার পরও উপোস ভাঙেন। তাই, জন্মাষ্টমীর রাতে ঘরে লাড্ডু গোপালের পুজো করলে রাত ১২টার আশপাশের সময়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেছে নিতে পারেন। এই সময় শ্রীকৃষ্ণের জন্মমুহূর্ত স্মরণ করে ভক্তিভরে পুজো, আরতি ও প্রার্থনা করাই মূল বিষয়।