রান্নাঘরের বাস্তুশাস্ত্রVastu Tips For Kitchen: বাস্তুশাস্ত্র মতে রান্নাঘর শুধুই খাবার তৈরির জায়গা নয়, এটি পরিবারের সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্রস্থল। আগুনের প্রতীক এই স্থানকে মা অন্নপূর্ণার অধিষ্ঠান হিসেবে পবিত্র বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভাবে নির্মিত ও সাজানো রান্নাঘর পরিবারে পুষ্টি ও আর্থিক স্থিতি নিয়ে আসে। তবে রান্নাঘরে বাস্তু ত্রুটি থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে স্বাস্থ্য, অর্থভাগ্য, কেরিয়ার এবং পারিবারিক সম্পর্কে।
বর্তমানে ফ্ল্যাট সংস্কৃতিতে ছোট অ্যাপার্টমেন্টে ছোট রান্নাঘর হওয়ায় অনেক সময় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে কিছু ভুল হয়ে যায়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রান্নাঘরে আগুন ও জলের উপাদান কখনও পাশাপাশি রাখা উচিত নয়। গ্যাসের ওভেন আগুনের প্রতীক এবং সিঙ্ক জলের প্রতীক। এই দুই বিপরীত শক্তিকে পাশাপাশি রাখলে নাকি সংঘর্ষ তৈরি হয়, যা পরিবারের আর্থিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘন ঘন অসুস্থতা, অশান্তি বা ঝগড়া বাড়তে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
বাস্তু অনুসারে গ্যাসের চুলা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা শুভ। সিঙ্ক ideally উত্তর-পূর্ব দিকে হওয়া উচিত। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে গ্যাস ও সিঙ্কের মাঝখানে একটি কাঠের পার্টিশন রাখা যেতে পারে। রান্নাঘরে একটি সবুজ গাছ রাখাও ইতিবাচক শক্তি বাড়ায় বলে মনে করা হয়। নোংরা বাসন দীর্ঘ সময় সিঙ্কে ফেলে রাখা উচিত নয়। সিঙ্ক পরিষ্কার ও শুকনো রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রান্নার কাজ শেষ হলে সিঙ্ক ধুয়ে কাপড় দিয়ে মুছে শুকনো করে নেওয়া ভালো।
এছাড়া গ্যাসের ওভেনের একেবারে পাশে পানীয় জল রাখা থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। আগুন ও জলের উপাদান কাছাকাছি থাকলে বাস্তু ত্রুটি তৈরি হতে পারে। রান্নাঘরে ডাস্টবিন না রাখাই শ্রেয়। বাধ্য হলে তা ঢেকে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট এই সতর্কতা মেনে চললে রান্নাঘরের ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকবে এবং পরিবারে শান্তি-সমৃদ্ধি আসবে।