মহাশিবরাত্রির রীতি-রেওয়াজপ্রতি বছর মহাশিবরাত্রির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন শিবভক্তরা। গোটা দেশে মহাসমারোহে পালন হয় এই শিবরাত্রি। এইদিন শিবভক্তা সারাদিন উপোস করেন, কেউ বা রাত জেগে শিবের মাথায় জল ঢেলে ব্রত ভাঙেন। নিষ্ঠাভরে শিবের আরাধনা করলে ভোলেবাবা ভক্তের সব ইচ্ছে পূরণ করেন। শিব ও পার্বতীর বিবাহের দিনটিকেই মহাশিবরাত্রি বলে গণ্য করা হয়। এই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার মহাশিবরাত্রি পালন করা হবে।
কবে শিবরাত্রি ২০২৬ (Maha Shivratri 2026 Date)
ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথি ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সন্ধে ৫টা ৪ মিনিট থেকে শুরু হবে। এই তিথি ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধে ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। চতুর্দশী তিথি রাতে হওয়ার কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির ব্রত ও পুজো করা হবে।
মহাশিবরাত্রির ব্রতের নিয়ম
যাঁরা ব্রত রাখেন তাঁরা অনেকেই নির্জলা ব্রত পালন করে থাকেন। যার অর্থ হল ব্রত চলাকালীন তাঁরা জলও পান করেন না। যাঁরা কঠোরভাবে ব্রত পালন করতে পারেন না, তাঁরা ফলাহার করে ব্রত করতে পারেন। ব্রত রাখার একদিন আগেই সংযম ও নিরামিষ আহারের নিয়ম রয়েছে। এতে মন ও শরীর শান্ত থাকে।
কী খাবেন
ব্রত বা উপোসের সময় নিরামিষ খাওয়া-দাওয়া করাই শ্রেয়। ফল, দুধ, পনির, আলু, রাঙা আলু, সাবুমাখা বা সাবুর খিচুড়ি এই সময় খাওা উচিত। এই সাত্ত্বিক আহার শরীরকে হালকা রাখে। এমনিতেই উপোস ভাঙার পর ভারী বা মশলাদার কোনও খাবার খাওয়া উচিত নয়।
কী খাবেন না
চাল, গম, ডাল এবং ডালের মতো শস্য এবং ডাল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যদিও ভগবান শিবকে নারকেল নিবেদন করা যেতে পারে, তবে নারকেল জল নৈবেদ্য হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আমিষ জাতীয় খাবার এদিন না খাওয়াই ভাল। উপোসের সময় অতিরিক্ত চা-কফি খাবেন না।
শিবরাত্রির চার প্রহরের পুজোর সময়
মহাশিবরাত্রিতে চার প্রহর জেগে শিবের মাথায় জল ঢালার রীতি রয়েছে।
প্রথম প্রহরের পুজো: ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধে ৬টা ১১ থেকে রাত ৯টা ২২ পর্যন্ত
দ্বিতীয় প্রহরের পুজো: ১৫ ফেব্রুয়ারি রীত ৯টা ২৩ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৩৪ পর্যন্ত
তৃতীয় প্রহরের পুজো: ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৩৫ থেকে ভোররাত ৩টে ৪৬ পর্যন্ত
চতুর্থ প্রহরের পুজো: ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টে ৪৬ থেকে সকাল ৬টা ৪৯ পর্যন্ত।
এছাড়াও, ১৬ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২:০৯ টা থেকে ১:০১ টা পর্যন্ত নিশীথ কাল পুজো করা যেতে পারে, যা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।