নাগ পঞ্চমীহিন্দুধর্মে নাগ পঞ্চমী একটি মাহাত্মপূর্ণ উৎসব। এইদিনে নাগ দেবতার আরাধনা করা হয়। যেহেতু মহাদেবের গলায় জড়ানো থাকে সাপ, সেই কারণে নাগ পঞ্চমীতে মহাদেবের পুজো করারও রীতি প্রচলিত আছে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় নাগপঞ্চমী। এই বছর নাগ পঞ্চমী পালিত হবে ২১ অগাস্টে। এই দিনে নাগ দেবতার পুজো করলে কালসর্প দোষ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
নাগ পঞ্চমীর দিনক্ষণ
পুরাণ মতে, নাগ লোক বা পাতাল থেকে সর্পকুল এদিন মর্তের মানুষকে আশীর্বাদ করেন। জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি, অভাব অনটন ঘোচাতে সাপেদের এই আশীর্বাদ অত্যন্ত পয়মন্ত বলে মনে করেন অনেকেই। এই বছরের ২১ অগাস্ট সোমবার সকাল ১২টা ১১ মিনিট থেকে শুরু হবে হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উত্সব। শেষ হবে পরের দিন, ২২ অগাস্ট, দুপুর ২টোয়। উদয়তিথির ভিত্তিতে এ বছর ২১ অগস্ট সোমবার পালিত হবে নাগ পঞ্চমী। এই উত্সবকে শ্রাবণ সোমব্রতও বলা হয়ে থাকে।
পুজোবিধি
নাগদেবতার মূর্তির সামনে এদিন রাখা হয় দুধ, চন্দন, হলুদ ও সিঁদুর। মূর্তির সামনে জ্বালানো হয় কর্পূরের প্রদীপ। পাঠ করা হয় নাগপঞ্চমী ব্রতকথা। হিন্দুরা সাপকে দেবতা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও সাপের কখনও ক্ষতি করা উচিত নয়, তবে বিশেষ করে নাগ পঞ্চমীর দিনে সাপকে আঘাত করবেন না। এতে করে বংশ পরম্পরায় আগামী সাতজন্মের জন্য দোষের অংশীদার হতে হয়।
জীবন্ত সাপকে দুধ খাওয়াবেন না
এদিন জীবন্ত সাপকে দুধ খাওয়াবেন না। দুধ সাপের জন্য বিষের মতো হতে পারে, তাই শুধুমাত্র তাদের প্রতিমায় দুধ নিবেদন করুন।
জমি খনন করবেন না
এই দিনে কোনও কাজের জন্য জমি খনন করবেন না। এতে করে মাটিতে বা মাটিতে সাপের গর্ত বা বাম্বি ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কথিত আছে, সাপ ক্ষতিগ্রস্থ হলে পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। শিশুরা সুখ পায় না।
ধারালো বস্তুর ব্যবহার
নাগ পঞ্চমীতে ছুরি, সূঁচের মতো ধারালো ও ধারালো বস্তু ব্যবহার করা অশুভ বলে মনে করা হয়। এদিন সেলাই, সূচিকর্ম করা হয় না।
লোহার জিনিসে রান্না নয়
নাগ পঞ্চমীতে লোহার কড়াই ও প্যানে খাবার রান্না করবেন না। বিশ্বাস অনুসারে, রুটি তৈরির জন্য ব্যবহৃত লোহার চাটুকে সাপের ফণা বলে মনে করা হয়।