
হিন্দু ধর্মে অক্ষয় তৃতীয়া একটি পবিত্র দিন। এই বছর বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয় তিথি অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল, সোমবার অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে। এই দিনে ধর্মীয় মানুষরা প্রচুর পরিমাণ সোনা, রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র কেনেন। কিন্তু বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সাধক প্রেমানন্দ মহারাজের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহারাজ বলেন, 'পার্থিব জিনিস নশ্বর। কিন্তু এই পবিত্র তিথিতে করা একটি বিশেষ কাজ আপনার পার্থিব এবং আধ্যাত্মিক উভয় জীবনকেই উন্নত করতে পারে।'
মহারাজের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ দান কী?
সৎসঙ্গের সময়ে মহারাজ প্রেমানন্দ বলেন, 'অক্ষয় তৃতীয়ায় আমরা খাজ্য, জল বা অর্থ দান করি। কিন্তু ভগবানের নাম জপ করা এই সবকিছুর থেকে ঊর্ধ্ব। যদি আপনার জিহ্বা থেকে অবিরাম রাধা, রাধা বা ভগবানের নাম উচ্চারিত হয় এবং সেই ধ্বনি কোনও দুঃখী ব্যক্তির কানে পৌঁছয় তবে তা তাঁর জীবনের অন্ধকার দূর করতে পারে। এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ দান।'
প্রেমানন্দের ৩ বিশেষ প্রতিকার
> নীরবতা পালন করুন: প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, 'অক্ষয় তৃতীয়ায় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও তর্কবিতকর্ক এড়িয়ে নীরবতা পালন করাই সর্বোত্তম। নীরব থাকলে শক্তি সঞ্চয় হয়। যা আপনি ভগবানের প্রতি ভক্তিতে ব্যবহার করতে পারেন।'
> বাইরের জল ও খাবার ত্যাগ: মহারাজ একটি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে বাইরের জল পর্যন্ত পান না করার চেষ্টা করতে বলেছেন তিনি। বাড়িতে ভগবানকে খাবার নিবেদন করে প্রসাদ হিসেবে তা গ্রহণ করতে বলেছেন। এতে আপনার মন ও চিন্তা শুদ্ধ থাকে।
> নিয়মিত জপ: অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে মন্ত্র জপ করার কথা বলেছেন প্রেমানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, 'এই দিনে আপনার যথাসম্ভব ভগবানের নাম জপ করা উচিত। যাতে আপনার চারপাশের পরিবেশ ইতিবাচক ও ভক্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে।'
সোনা কেনার সামর্থ্য নেই?
প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, আর্থিক কারণে যদি কেউ সোনা বা রুপো কিনতে না পারেন, তবে হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে যব কেনা বা দান করও সোনা কেনার মতোই পুণ্যফল প্রদান করে। এছাড়াও মাটির পাত্রে জল ভরে কোনও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকে পান করানো একটি চিরকালীন পুণ্যকর্ম বলে মনে করা হয়।