শিবরাত্রিতে বাড়িতে পুজো করলেই প্রসন্ন হবেন মহাদেবসনাতন ধর্মে ভগবান শিবকে সবচেয়ে সহজ সরল দেবতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, শিবকে প্রসন্ন করতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করার দরকার পড়ে না। বরং এক পাত্র জল আর প্রকৃত ভক্তি থাকলেই শিব সন্তুষ্ট হন। তবে এই সরলতার মধ্যেও কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেই নিয়মগুলো মেনে চললে পুজো আরও ফলপ্রসূ হয়।
ব্রহ্ম মুহুর্তের সময় পূজা করা উচিত
বাড়িতে প্রতিদিন মহাদেবের পুজোর জন্য ব্রহ্ম মুহুর্তকেই সবচেয়ে শ্রেয় বলে মনে করা হয়। ব্রহ্ম মুহুর্তের সময় পূজা বিশেষভাবে ফলপ্রসূ বলে ধরা হয়। যদিও সবার পক্ষে এই নিয়ম মানা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের পরে স্নান করে ভগবান শিবের পূজা করা উচিত। সন্ধ্যা বেলাতেও মহাদেবের পুজো চলতে পারে। তবে সন্ধ্যাবেলায় শিবলিঙ্গে জল ঢালা উচিত নয়।
মনের শুদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ
বাহ্যিক শুদ্ধির পাশাপাশি শিব উপাসনায় মনের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিকরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপাসনাস্থল আগে থেকে পরিষ্কার করতে হবে। এই সময় মন শান্ত রাখা উচিত। রাগ, চাপ ও অস্থিরতার অবস্থায় করা পূজা শাস্ত্রে অনুপযুক্ত বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, শিব হলেন আবেগের দেবতা। তাই মনের অবস্থা পুজোর আড়ম্বরের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শিবলিঙ্গের আকার কত হওয়া উচিত?
বাড়িতে পুজোর জন্য একটি ছোট শিবলিঙ্গ হলেও চলবে। বাড়িতে পুজোর জন্য পাথর বা ধাতব শিবলিঙ্গ অপরিহার্য। একটি পাত্রে শিবলিঙ্গ বসিয়ে তবেই শিবলিঙ্গে জল ঢালা উচিত। বাড়িতে খুব বড় শিবলিঙ্গ বসানো উচিত নয়।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে বাড়িতে শুধুমাত্র একটি বৃদ্ধাঙ্গুলির আকারের শিবলিঙ্গ স্থাপন করা উচিত। জল হল শিবপুজোর মৌলিক উপাদান। গঙ্গার জলের মতো পরিষ্কার জল, ভগবান শিবকে অভিষেক করার জন্য ব্যবহৃত হয়। শিবলিঙ্গের উপর থেকে জলের ধারা যাতে নীচের দিকে প্রবাহিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বেল পাতার ব্যবহার অপরিহার্য
শিবপুজোয় বেল পাতা ব্যবহার অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। শিবলিঙ্গে অখন্ড বেল পাতা দেওয়া উচিত। বেল পাতা নিবেদনের সময়, এর কাণ্ড শিবলিঙ্গের দিকে থাকা উচিত। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ভক্তি সহকারে নিবেদিত একটি বেল পাতাও শত যজ্ঞের সমান ফল দেয়।