টাকা আসতে পারে আপনার কোষাগারেও, এই জিনিস রেখে দেখুনHow To Attract Money In Cash Box: সনাতন বিশ্বাস বলে, সিন্দুক যদি খালি থাকে, তবে ঘরে কখনোই স্থায়ী সমৃদ্ধি বা লক্ষ্মীর আগমন ঘটে না। আর সেই কারণেই প্রাচীনকাল থেকে লোকবিশ্বাস মেনে লকারে কিছু বিশেষ জিনিস রাখার রীতি চলে আসছে। যাতে অর্থ ও সম্পত্তির টান কখনো না পড়ে। আপনিও যদি পকেটের টান ও লকারের শূন্যতা দূর করতে চান, তবে দেখে নিন প্রচলিত ১০টি অব্যর্থ উপায়।
পুজোর গোটা সুপারি ও হলুদ কাপড়ের পুটলি: পুজোর গোটা সুপারি লকারে রাখার রীতি বহু পুরনো। শাস্ত্রে সুপারিকে দেবী গৌরী ও সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রতীক ধরা হয়। লক্ষ্মীপুজোর দিন একটি গোটা সুপারি রেখে তাতে সিঁদুর, চন্দন ও ফুল দিয়ে পুজো করার পর সেটি সিন্দুকে রেখে দিলে ঘরে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী অধিষ্ঠান হয় বলে গ্রামেগঞ্জে আজও বিশ্বাস করা হয়। পাশাপাশি, যেকোনো শুক্রবার একটি হলুদ কাপড়ে পাঁচটি কড়ি, সামান্য কেশর এবং একটি রুপোর কয়েন একসাথে বেঁধে সিন্দুকে রাখলে আর্থিক ভাগ্য এক ঝটকায় খুলে যায়। এই ছোট্ট পুঁটলির সঙ্গে একটু গোটা হলুদ দিলে নাকি আরও চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
নোটের বান্ডিল, তামার কয়েন ও অশ্বত্থ পাতা: লকারে সবসময় দশ টাকার নোটের একটি আস্ত বান্ডিল রেখে তার সঙ্গে পিতল ও তামার কয়েন রাখার একটি বিশেষ রীতি আছে। এমনকি কিছু কয়েন নিজের ব্যক্তিগত পকেটে রাখলেও নাকি অর্থলাভের যোগ বাড়ে। তবে সাবধান, এই কয়েন যেন ভুলেও অ্যালুমিনিয়াম বা জার্মান সিলভারের না হয়। এছাড়া, আর্থিক বাধা দূর করতে পাঁচ শনিবার একটি বিশেষ নিয়ম মানতে পারেন। একটি অশ্বত্থ পাতায় দেশি ঘিয়ে মেশানো লাল সিঁদুর দিয়ে ‘ওম’ লিখে সেটি সিন্দুকে রাখুন। পরপর পাঁচ শনিবার এমনটা করলে যাবতীয় অর্থকষ্ট কেটে যায়।
পুষ্যা নক্ষত্রের পুজো ও দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ: পুষ্যা নক্ষত্রে লক্ষ্মীপুজোর সময় পুরনো রুপোর কয়েন ও একটি কড়ি কেশর-হলুদ দিয়ে পুজো করে সিন্দুকে রাখার চল বহু পরিবারে রয়েছে। এর ফলে লকার নাকি সর্বদা ধন-ধান্যে পূর্ণ থাকে। একইভাবে, ঘরের পূজাস্থান বা সিন্দুকের ভেতরে একটি দক্ষিণাবর্তী শঙ্খ রাখলে মা লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা পাওয়া যায়। তন্ত্রশাস্ত্রেও এই শঙ্খের উল্লেখ রয়েছে এবং বলা হয়, এই শঙ্খ পরিবারে দ্রুত সমৃদ্ধি বাড়ায়।
ভূর্জপত্র, বহেড়ার শিকড় ও শঙ্খপুষ্পী: অর্থসঞ্চয় বাড়াতে ভূর্জপত্রের একটি টোটকা দারুণ কার্যকরী। ভূর্জপত্রে লাল চন্দন জলে গুলে কালির মতো তৈরি করে, ময়ূরের পালক দিয়ে ‘শ্রী’ লিখে সিন্দুকে রেখে দিন। এতে অভাব অনটন দূর হয়। আবার প্রাচীন শাস্ত্র মতে, পুষ্যা নক্ষত্রে বহেড়া গাছের শিকড় বা পাতা এনে পুজো করে লাল কাপড়ে মুড়ে সিন্দুকে রাখলে ধনসম্পদ বৃদ্ধি পায়। এই একই নক্ষত্রের দিনে শঙ্খপুষ্পীর শিকড় পুজো করে রুপোর পাত্রে রেখে সিন্দুকে স্থাপন করলেও লক্ষ্মীর কৃপা মেলে। তবে প্রতি গুরু-পুষ্যা নক্ষত্রের তিথিতে পাত্রটি বদলে আগেরটি জলে ভাসিয়ে দিতে হয়।
ধনদা যন্ত্রের চমৎকার: যারা লকারকে সবসময় টাকার গরমে ভরতি রাখতে চান, তাঁরা বিধি মেনে ধনদা যন্ত্র বা ঐশ্বর্য বৃদ্ধির যন্ত্র পুজো করে সিন্দুকে স্থাপন করতে পারেন। প্রচলিত ধারণা, এই যন্ত্রের প্রভাবে গৃহস্থের অর্থভাণ্ডার কোনোদিন খালি হয় না। বহু মানুষ আজীবন এই নিয়ম নিষ্ঠাভরে মেনে আসছেন।
vastu-tips-for-locker-money-wealth-remedies-astrology-laxmi-puja-totka-ssr