তুলসী গাছ হিন্দু ধর্মে তুলসীকে শুধুমাত্র একটি গাছ হিসাবে নয়, সেই সঙ্গে পবিত্রতা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, তুলসী গাছের নিয়মিত পুজো করলে জীবনে অনেক ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তুলসী গাছ ভগবান বিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্বাস করা হয়,যেসব বাড়িতে নিয়মিত তুলসীর পুজো করা হয়, সেসব বাড়িতে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকে। বিশ্বাস করা হয় যে, প্রতিদিন তুলসীর পুজো করলে মনে শান্তি আসে এবং বাড়িতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়।
তবে, বাস্তুশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, সব জায়গায় তুলসী রাখা উচিত নয়। ভুল জায়গায় তুলসী রাখলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। এর ফলে কখনও কখনও আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ এবং এমনকী স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক জায়গায় তুলসী রাখা অত্যন্ত জরুরি।
শোবার ঘরে তুলসী রাখা
শোবার ঘর হল বিশ্রাম এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্থান। সেখানে তুলসী গাছ রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। এটি অস্থিরতা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই শোবার ঘরে কখনও তুলসী রাখা উচিত নয়।
রান্নাঘরে তুলসী রাখা
রান্নাঘরকে আগুনের স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে খাবার তৈরি হয়। তুলসী গাছ শান্তি এবং পবিত্রতার প্রতীক। যখন তুলসীকে রান্নাঘরে রাখা হয়, তখন এর শক্তি এবং রান্নাঘরের আগুনের শক্তির মধ্যে সংঘাত হয়। এর ফলে খাদ্যের অভাব, খরচ বৃদ্ধি এবং আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে।
বাথরুম বা শৌচাগারের কাছে তুলসী রাখা
পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও, বাথরুম এবং শৌচাগারকে ধর্মীয়ভাবে অপবিত্র বলে মনে করা হয়। এই জায়গাগুলোর কাছে তুলসী গাছ রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। এটি নেতিবাচক শক্তি বাড়াতে পারে এবং বাড়ির সদস্যদের স্বাস্থ্যের উপরও খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রধান দরজার সামনে বা বাইরে তুলসী রাখা
প্রধান দরজা হল বাড়িতে শক্তি প্রবেশ এবং বের হওয়ার একটি মাধ্যম। দরজার ঠিক সামনে বা বাইরে তুলসী রাখলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, প্রধান দরজা খোলা এবং পরিষ্কার রাখা উচিত যাতে ইতিবাচক শক্তি সহজেই বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে।
শুধুমাত্র সঠিক জায়গায় রাখা তুলসী গাছই বাড়িতে সমৃদ্ধি এবং শান্তি নিয়ে আসে। তুলসীকে বাড়ির উঠোন, বারান্দা বা উত্তর-পূর্ব দিকে রাখাই সবচেয়ে ভাল।