Vastu Tips Broom: সন্ধ্যার পর ঝাড়ুু দেবেন নাVastu Tips For Good Luck: বাস্তুশাস্ত্র কেবল দালানকোঠা তৈরি কিংবা দিকনির্ণয়ের ব্যাকরণ নয়, বরং আমাদের রোজকার আচার-আচরণের দর্পণ। শাস্ত্র মতে, ঘর সবসময় ঝকঝকে তকতকে রাখা কেবল চোখের আরাম নয়, মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত। আর এই পরিচ্ছন্নতার প্রধান হাতিয়ার হলো আমাদের নিত্যসঙ্গী ‘ঝাড়ু’। কিন্তু জানেন কি, এই অতি সাধারণ উপকরণটি ব্যবহারের ভুলেই আপনার ঘর থেকে লক্ষ্মী বিদায় নিতে পারেন? বাস্তুবিদদের মতে, ঝাড়ু ব্যবহারের সঠিক সময় ও নিয়ম না জানলে সংসারে দারিদ্র্য ও অশান্তি আসা অনিবার্য।
শাস্ত্র বলছে, ঘর ঝাড়ু দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় হলো কাকভোর। সূর্য ওঠার মুহূর্ত পর্যন্ত ঝাড়ু দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ এতে রাতভর জমে থাকা অশুভ শক্তি ঘর থেকে দূর হয়। কিন্তু সূর্যাস্তের পর ঝাড়ু ছোঁয়ালেই বিপদ। হিন্দু শাস্ত্র মতে, সন্ধ্যা বা গভীর রাতে ঝাড়ু দিলে মা লক্ষ্মী গৃহত্যাগ করেন। এর ফলে কেবল আর্থিক অনটন নয়, ঘরে নিত্য অশান্তি এবং সদস্যদের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাও বাড়তে পারে। প্রাচীন মুরুব্বিদের ব্যাখ্যায় এর একটি ব্যবহারিক কারণও আছে, আগেকার দিনে রাতে পর্যাপ্ত আলো থাকত না, ফলে ঝাড়ু দেওয়ার সময় ছোটখাটো মূল্যবান জিনিস অজান্তে জঞ্জালের সাথে বাইরে চলে যাওয়ার ভয় থাকত। সেই বিশ্বাস থেকেই সন্ধ্যার পর ঝাড়ু না দেওয়ার প্রথা চলে আসছে।
ঝাড়ু রাখার ক্ষেত্রেও আছে কড়া নিয়ম। বাস্তু মতে, ঝাড়ু কখনও সবার চোখের সামনে খোলা জায়গায় ফেলে রাখা উচিত নয়। একে সবসময় আগলে, গুছিয়ে এবং ভালো করে বেঁধে কোনও গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখতে হয়। ঠিক যেমন আমরা আমাদের ধনসম্পদ বা টাকা আড়ালে রাখি। এলোমেলো বা ছড়ানো ঝাড়ু ঘরে রাখলে তা আর্থিক স্থিতিতে আঘাত হানে এবং পারিবারিক বিবাদ উসকে দেয়। তাই সুখ-শান্তি বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাস্তুর এই নিয়মগুলি মেনে চলা সমান জরুরি।