বেডরুমে এই জিনিসগুলি থাকলে এখনই সরান, হতে পারে ডিভোর্সের কারণRelationship Vastu Tips: সনাতন হিন্দুধর্মে ষোলোটি প্রধান সংস্কারের মধ্যে বিবাহ সংস্কারকে সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বলা হয়, বিয়ে মানেই কেবল দুটো মানুষের মিলন নয়, এ এক সাত জনমের অটুট বন্ধন। কিন্তু চার হাত এক হলেই কি আর জীবনটা মধুময় হয়ে ওঠে? বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে বিয়ের কিছুদিন কাটতে না কাটতেই অনেকের সংসারে শুরু হয় ভাঙন, যা গড়ায় আদালত বা বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত। বাস্তুশাস্ত্রবিদদের মতে, অনেক সময় সব ঠিক থাকার পরেও দম্পতির শোওয়ার ঘরের মারাত্মক কিছু বাস্তু ত্রুটির কারণে সংসারে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই কিন্তু নববিবাহিতদের জীবনে প্রেম-ভালোবাসা আজীবন অটুট রাখা সম্ভব।
কোন দিকে হবে শোওয়ার ঘর?
বাস্তু মতে, নববিবাহিত দম্পতিদের ঘর সবসময় বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে হওয়া অত্যন্ত শুভ। এই দিকটিকে দাম্পত্য জীবনে প্রেম ও আকর্ষণ বৃদ্ধির প্রধান দিক বলে মনে করা হয়। এই কোণে সংসার পাতলে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মধুর সম্পর্ক বজায় থাকে এবং কোনও বড় অসুবিধা গ্রাস করতে পারে না। তবে শুধু ঘর সঠিক দিকে হলেই হবে না, শোওয়ার সময় মাথা কোন দিকে থাকছে, সেটাও দেখতে হবে। ভুলেও ঘুমানোর সময় দম্পতিরা দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে মাথা রাখবেন না। মাথা সঠিক দিকে রেখে ঘুমালে পরিবারে যেমন শান্তি ফেরে, তেমনই অভাবনীয় অর্থপ্রাপ্তির যোগ তৈরি হয়।
কেমন খাটে শোবেন, কী রাখবেন না?
আজকাল আধুনিকতার চক্করে অনেকেই লোহা বা অন্য কোনও ধাতুর তৈরি কায়দা করা খাট ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র স্পষ্ট বলছে, সদ্য বিবাহিতদের বিছানা বা খাট কোনও ধাতুর জিনিস দিয়ে তৈরি হওয়া উচিত নয়। এতে দাম্পত্য কলহ তো বাড়েই, সঙ্গে মারাত্মক অর্থহানির আশঙ্কা থাকে। নববধূর জন্য সবসময় বর্গাকার (Square) কাঠের বিছানায় শোওয়া পরম শুভ। এতে জীবনে সুখ উপচে পড়ে এবং আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। একই সঙ্গে মনে রাখবেন, খাটের ওপর কখনও কোনও উপহারের বাক্স বা রান্নার বাসনপত্র জমিয়ে রাখবেন না। এই অভ্যাস আপনার বিবাহিত জীবনকে সমস্যার পাহাড় বানিয়ে দিতে পারে।
রং ও আচরণে বদল আনুন
নতুন দম্পতিদের ঘরের দেওয়ালে ভুলেও নীল বা কালো রঙের মতো গাঢ় শেড ব্যবহার করা উচিত নয়। এই সব রং ঘরে নেতিবাচক শক্তি ডেকে আনে এবং অকারণ অশান্তির জন্ম দেয়। তাই ঘরের দেওয়ালে সবসময় হালকা ও স্নিগ্ধ রং করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সবশেষে মনে রাখা দরকার, বাস্তু তখনই কাজ করবে যখন নিজেদের স্বভাব ঠিক থাকবে। সংসারে সুখ ধরে রাখতে হলে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া করা, কথায় কথায় মাথা গরম করা বা তর্কাতর্কি করা বন্ধ করতে হবে। মারামারি, হানাহানি বা ইগো-র লড়াই এড়িয়ে চললে তবেই সাত জনমের এই বন্ধন স্বর্গের মতো সুন্দর হয়ে উঠবে।