কোথায় কীভাবে খরচ হয়ে যাচ্ছে, তার হিসাবও অনেক সময় মেলে না। Vastu Tips for Money: মাসের শুরুতে হাতে টাকা আসে। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই যেন সব শেষ। কোথায় কীভাবে খরচ হয়ে যাচ্ছে, তার হিসাবও অনেক সময় মেলে না। সংসারের প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি হঠাৎ নানা অপ্রত্যাশিত খরচ এসে বাজেট নষ্ট করে দেয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর সঙ্গে বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকের সম্পর্ক থাকতে পারে।
বাস্তু মতে, বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই দিকটি অগ্নি তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই অংশে কোন জিনিস রাখা হচ্ছে, বাড়ির এই জায়গাটি কতটা পরিষ্কার এবং সেখানে কোন রং ব্যবহার করা হচ্ছে, সে দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন বাস্তু বিশেষজ্ঞেরা।
তাঁদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাস্তুদোষ থাকলে সংসারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। আয় ভাল হলেও খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একের পর এক অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে। ফলে মাসের শেষে সঞ্চয়ের পরিমাণও কমে যেতে পারে।
তবে মনে রাখা দরকার, এগুলি বাস্তুসংক্রান্ত বিশ্বাস। এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বাস্তবে পরিবারের আয়, খরচের ধরন, ঋণ এবং সঞ্চয়ের পরিকল্পনাই আর্থিক অবস্থার প্রধান বিষয়।
দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রান্নাঘর থাকলে কী হয়?
বাস্তু মতে, দক্ষিণ-পূর্ব দিক অগ্নি তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই অংশে রান্নাঘর থাকা শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই দিকে পরিষ্কার এবং গোছানো রান্নাঘর থাকলে পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনের খরচে ভারসাম্য বজায় থাকে।
রান্নাঘর যদি এই দিকে থাকে, তা হলে সেটিকে পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রান্নাঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রাখাই ভাল। বাস্তু মতে, বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব অংশও একই ভাবে পরিষ্কার এবং সুশৃঙ্খল রাখা উচিত।
দক্ষিণ-পূর্ব দিকে শৌচাগার?
বাস্তু মতে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে শৌচাগার থাকা এড়িয়ে চলা উচিত। এই অবস্থানকে বাস্তুদোষের একটি কারণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এমন হলে অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে। কোথায় টাকা খরচ করা প্রয়োজন এবং কোথায় খরচ না করাই ভাল, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও সমস্যা হতে পারে বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোনও ধরনের গর্ত বা নিচু জায়গা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাড়ির এই অংশে জল বা জলতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত উপাদান রাখাও বাস্তু মতে অনুকূল নয়।
কোন রং ব্যবহার করবেন?
দক্ষিণ-পূর্ব দিকের জন্য বাস্তু মতে সবুজ এবং গোলাপি রংকে ভাল বলে মনে করা হয়। অন্য দিকে কালো এবং নীল রং এই অংশে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন কিছু বাস্তু বিশেষজ্ঞ। দুধসাদা রং নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব দিক অগ্নি তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হলেও এখানে অতিরিক্ত লাল রং ব্যবহার করাও ঠিক নয় বলে বাস্তু মতে মনে করা হয়। অর্থাৎ শুধু রং বদলালেই সমস্যা মিটবে, এমন নয়। বাড়ির এই অংশ পরিষ্কার, আলো-বাতাসযুক্ত এবং গোছানো রাখার উপরেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব দিক?
বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে না রাখাই ভাল। রান্নাঘর থাকলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এই জায়গায় জল জমে থাকে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
বাস্তু মতে, দক্ষিণ-পূর্ব দিক ঠিক ভাবে রাখা হলে সংসারের আর্থিক জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে আয় থাকা সত্ত্বেও যদি মাসের খরচ সামলাতে সমস্যা হয়, তা হলে বাড়ির এই অংশটি এক বার দেখে নিতে পারেন।
তবে অর্থনৈতিক সমস্যা মেটাতে শুধু বাস্তু-নির্ভর না হয়ে আয়-ব্যয়ের হিসেব রাখাও জরুরি। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসই আর্থিক স্থিতাবস্থা ফেরানোর সবচেয়ে বাস্তব উপায়।
দ্রষ্টব্য: রাশি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জ্যোতিষ ও লোকমতভিত্তিক। এগুলি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ বা সুপারিশ নয়।