কৌশিকী অমাবস্যার শুভ তিথি জানুনজ্যোতিষ শাস্ত্রমতে কৌশিকী অমাবস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়, এর প্রভাব জ্যোতিষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই বছর কৌশিকী অমাবস্যায় জীবনে বিরাট উন্নতিকর পরিস্থিতি আসতে চলেছে ৷ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভাদ্র অমাবস্যা বা কৌশিকী অমাবস্যা। এদিন কালীপীঠগুলোতে ভক্তিভরে মা কালীর আরাধনা করা হয়। তারাপীঠে জাঁকজমকের সঙ্গে এই কৌশিকী অমাবস্যা পালন করা হয় প্রতিবছর। তন্ত্রশাস্ত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো কৌশিকী অমাবস্যা, যা দেবী কৌশিকীর আরাধনা ও সাধনার এক পবিত্র তিথি। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যায় শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুর বধের লগ্ন বা সাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের স্মৃতি বিজড়িত। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিনে আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরাধনা করলে দেবীর অশেষ কৃপা লাভ করা যায়। আসুন দেখে নিন এই বছর কৌশিকী অমাবস্যার শুভ তিথি কখন থেকে।
কবে ও কখন থেকে অমাবস্যা তিথি শুরু
চলতি বছরে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে। যা ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত এই অমাবস্যা তিথি থাকবে।
কৌশিকী অমাবস্যার সময়
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩/১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, (বৃহস্পতিবার) চতুর্দশী দিবা ঘ ১০।১০ মিনিটে শেষ। তারপর, দিবা ঘ ১০।১১ মিনিট থেকে কৌশিকী অমাবস্যা আরম্ভ বা শুরু। এরপর অমাবস্যা শেষ বা ছাড়বে ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ /১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, (শুক্রবার) অমাবস্যা দিবা ঘ ৮।৫০ মিনিট পর্যন্ত, তারপর প্রতিপদ আরম্ভ।
কৌশিকী অমাবস্যার তাৎপর্য
দেবী কৌশিকী আসলে আদ্যাশক্তি মহামায়ারই আর একটি রূপ। কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতেই তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। এই দুই অসুরকে ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন যে একমাত্র কোনও অযোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম হয়নি, এমন কোনও নারীর হাতেই তাঁদের মৃত্যু হবে। কিন্তু এমন নারী কোথায়? তাই নিজেদের এক প্রকার অমর ভেবে স্বর্গ মর্ত্য জুড়ে অত্যাচার শুরু করে দুই অসুর ভাই শুম্ভ ও নিশুম্ভ। তখন সব দেবতারা মিলে মহাদেবের কাছে এই সমস্যার সমাধানের উপায় জানতে যান। এদিকে সতী দক্ষ যজ্ঞে স্বামীর মহাদেবের অপমান সহ্য করতে না পেরে আগুনে প্রাণ বিসর্জন করেন, তাই পার্বতী রূপে যখন তিনি আবার জন্ম নেন, তখন তাঁর গায়ের রং ছিল ঘোর কালো। স্নেহের বশে শিব তাঁকে কালিকা বলেই ডাকতেন। শুম্ভ নিশুম্ভকে কী করে বধ করা যায়, সেই পরামর্শ করতে সব দেবতাদের সামনেই মহাদেব তাঁকে কালিকা বলে সম্বোধন করেন। সবার সামনে তাঁকে কালিকা বলায় দেবীর মনে হয় যে স্বামী তাঁর গায়ের রং তুলে মশকরা করছেন। অভিমানে মানস সরোবরের তীরে বসে তপস্যা শুরু করেন তিনি। তারপর সরোবরের জলে স্নান করে তাঁর গায়ের সব কালো কোষ ঝরে যায় ও তাঁর গায়ের রং হয় পূর্ণিমা চাঁদের মতো। দেবীর গায়ের এই ঝরে পড়া কালো কোষ থেকে সৃষ্টি হয় ঘোর কৃষ্ণবর্ণ অপরূপ সুন্দরী এক দেবীর। কোষ থেকে জন্ম হয় বলে তাঁর নাম কৌশিকী। অযোনি সম্ভূত এই দেবী ভাদ্র অমাবস্যায় শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই তিথিকে কৌশিকী অমাবস্যা বলা হয়। তন্ত্র মতে এই রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এই রাতে এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরকের দরজা খুলে যায় এবং সাধক শুভ বা অশুভ শক্তির অধিকারী হতে পারেন। এই রাতে কঠোর তপস্যা করলে কূলকুণ্ডলিনী জাগ্রত হতে পারে বলে মনে করা হয়।