Dreams Reason: মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে; ঘুমের ঘোরে অবচেতন মনে এগুলো কিসের সংকেত?

Dreams Meaning: কখনও নিজেকে সম্পূর্ণ অচেনা কোনও জায়গায় আবিষ্কার করা, কখনও বহু পুরনো কোনও মানুষের সঙ্গে আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া, আবার কখনও এমন সব উদ্ভট ও অলৌকিক ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখা, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও দূরতম সম্পর্কও নেই।

Advertisement
মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে; ঘুমের ঘোরে অবচেতন মনে এগুলো কিসের সংকেত?প্রতীকী ছবি

প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে মানুষের মনে উঁকি দেয় হাজারো প্রশ্ন আর কৌতূহল। আর সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজকাল আমাদের প্রধান ভরসা গুগল। সম্প্রতি গুগলের সার্চ হিস্ট্রি ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, একটি প্রশ্ন নেটিজ়েনদের ভাবাচ্ছে সবচেয়ে বেশি- মানুষ আসলে স্বপ্ন কেন দেখে? এই চিরন্তন রহস্যের একটু গভীরে তলিয়ে দেখা যাক। স্বপ্ন কেন আসে, আর এর আদৌ কোনও গভীর অর্থ আছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে?

রাতে বালিশে মাথা রাখলে প্রায় সকলেই কম-বেশি স্বপ্ন দেখেন। কখনও নিজেকে সম্পূর্ণ অচেনা কোনও জায়গায় আবিষ্কার করা, কখনও বহু পুরনো কোনও মানুষের সঙ্গে আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া, আবার কখনও এমন সব উদ্ভট ও অলৌকিক ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখা, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও দূরতম সম্পর্কও নেই।

বিজ্ঞানীদের মতে, স্বপ্ন হল এক ধরনের মানসিক বিভ্রম, যা ঘুমের একটি নির্দিষ্ট স্তরে তৈরি হয়। মূলত REM (Rapid Eye Movement) বা র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপের সময়েই মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখে। এটি ঘুমের এমন একটি পর্যায়, যখন আমাদের শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকে ঠিকই, কিন্তু মস্তিষ্ক থাকে চূড়ান্ত সক্রিয়।

আশ্চর্যের বিষয় হল, ঠিক এই সময়ে দেখা স্বপ্নগুলো মনে রাখাই সবচেয়ে কঠিন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আমরা যখন জেগে থাকি, তখন আমাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট যুক্তি এবং সামঞ্জস্য থাকে। কিন্তু ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রক অংশটি অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে যুক্তি এবং বিশ্লেষণমূলক অংশের কাজ স্তিমিত হয়ে যায়। ঠিক এই কারণেই অনেক সময় স্বপ্নে আমরা এমন কিছু ঘটনা দেখি, যার বাস্তবে কোনও মাথা-মুণ্ডু থাকে না।

স্বপ্ন নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও সম্পূর্ণ সহমত হয়ে ওঠেননি। ঠিক কী কারণে মানুষ স্বপ্ন দেখে, তার কোনও নিখুঁত ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও অধরা। তবে এই নিয়ে বেশ কিছু চিত্তাকর্ষক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে:

Advertisement

আবেগের থেরাপি: একটি জনপ্রিয় তত্ত্ব অনুযায়ী, স্বপ্ন আমাদের মানসিক চিকিৎসকের মতো কাজ করে। সারা দিনের উদ্বেগ, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা নানা অবদমিত অনুভূতি— এই সব কিছুই স্বপ্নের মাধ্যমে মস্তিষ্ক প্রসেস করে বা গুছিয়ে নেয়। অনেক সময় আমরা অবচেতন মনে এমন অনেক অনুভূতিকে বুঝতে পারি, যা হয়তো জেগে থাকা অবস্থায় আমরা স্রেফ এড়িয়ে যাই।

বিপদের মোকাবিলা: অন্য একটি তত্ত্ব বলছে, স্বপ্ন হল আমাদের মস্তিষ্কের 'ফাইট অর ফ্লাইট'(Fight or Flight) অর্থাৎ বিপদের মোকাবিলা করার এক ধরনের মহড়া। স্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্কের 'অ্যামিগডালা' (Amygdala) অংশটি বেশ সক্রিয় থাকে, যা মূলত ভয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক সম্ভাব্য বিপদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়।

সৃজনশীলতার বিকাশ: কিছু গবেষক আবার মনে করেন, মানুষের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতেও স্বপ্নের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের অনেক প্রখ্যাত শিল্পী, লেখক এবং সুরকার দাবি করেছেন যে, তাঁরা তাঁদের জীবনের সেরা আইডিয়াগুলো স্বপ্নের মাধ্যমেই পেয়েছেন। ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে যুক্তির কড়াকড়ি অনেকটাই কমে যায়, ফলে অবচেতনে নতুন এবং অভিনব চিন্তাভাবনার উন্মেষ ঘটতে পারে।

স্মৃতির বিন্যাস: স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের স্মৃতিশক্তিরও একটি নিবিড় যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্ক সারা দিনের প্রয়োজনীয় তথ্য এবং স্মৃতিগুলোকে ঠিকমতো সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে। আর ঠিক এই কারণেই, নতুন কিছু শেখার পর ভালো ঘুম হলে, সেই বিষয়টি স্মৃতিতে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

সব স্বপ্ন কি শুধুই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া?

সব স্বপ্ন যে সুখকর হবে, এমন কোনও কথা নেই। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের অভাব, গর্ভাবস্থা, অবসাদ বা কিছু বিশেষ ওষুধের কারণে অনেক সময় ভয়ঙ্কর স্বপ্ন বা 'নাইটমেয়ার' (Nightmare)-ও আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি এই ধরনের ভয়ের স্বপ্ন বারবার আসতে থাকে এবং তা আপনার স্বাভাবিক ঘুমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে, তবে এটি কোনও 'স্লিপ ডিসঅর্ডার' (Sleep Disorder) বা ঘুমের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সহজ কথায়, স্বপ্নের রহস্যের জাল এখনও পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে, এর সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক, অনুভূতি, স্মৃতি এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের এক গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। আর সম্ভবত ঠিক এই কারণেই, প্রতি রাতে চোখ বুজলেই আমাদের মস্তিষ্ক এক সম্পূর্ণ নতুন ও আশ্চর্য জগত তৈরি করে ফেলে।

 

POST A COMMENT
Advertisement