Garud Puran: মৃতদেহের নাকে, কানে তুলো গোঁজা হয় কেন? গড়ুর পুরাণ ও বিজ্ঞান যা বলছে...

দাহ করার আগে দেহের সঙ্গে এমনটা কেন করা হয়, তা নিয়ে অনেকেই অবাক হন। এটা কি শুধুই একটি প্রথা, নাকি এর পেছনে কোনও ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক কারণ আছে? হিন্দুধর্মের পবিত্র গ্রন্থ গরুড় পুরাণ এবং আয়ুর্বেদে এই প্রথার পেছনের রহস্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, মৃত্যুর পর কেন নাকে ও কানে তুলো গোঁজা হয়।

Advertisement
মৃতদেহের নাকে, কানে তুলো গোঁজা হয় কেন? গড়ুর পুরাণ ও বিজ্ঞান যা বলছে...মহালয়ায় পিতৃশ্রাদ্ধ সারছেন এক ব্যক্তি - পিটিআই ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • প্রাণ বায়ু এবং শক্তির সংরক্ষণ নীতি
  • বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ
  • নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষার বিশ্বাস

হিন্দু ধর্মে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা সংস্কার রয়েছে। বহু প্রাচীন সেই সব সংস্কার। একাধিক ধর্মীয় রীতি। হিন্দুধর্মে জন্ম, মৃত্যু এবং তার পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠানের জন্য অনেক কঠোর নিয়ম, ঐতিহ্য এবং প্রথা রয়েছে। এই প্রতিটি আচারের পিছনে একটি গভীর বিজ্ঞানী, দার্শনিক বা আধ্যাত্মিক কারণ রয়েছে। আপনি হয়তো কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর ঠিক পরেই এমন একটি প্রথা দেখে থাকবেন, যেখানে মৃত ব্যক্তির নাক, কান এবং শরীরের অন্যান্য উন্মুক্ত অংশে তুলো গুঁজে রাখা হয়।

দাহ করার আগে দেহের সঙ্গে এমনটা কেন করা হয়, তা নিয়ে অনেকেই অবাক হন। এটা কি শুধুই একটি প্রথা, নাকি এর পেছনে কোনও ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিক কারণ আছে? হিন্দুধর্মের পবিত্র গ্রন্থ গরুড় পুরাণ এবং আয়ুর্বেদে এই প্রথার পেছনের রহস্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, মৃত্যুর পর কেন নাকে ও কানে তুলো গোঁজা হয়।

প্রাণ বায়ু এবং শক্তির সংরক্ষণ নীতি

গরুড় পুরাণ অনুসারে, যখন কোনও ব্যক্তি মারা যায়, তখন আত্মা দেহ ত্যাগ করে এক সূক্ষ্ম যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে। গরুড় পুরাণ অনুসারে, দেহের মধ্যে নয়টি প্রধান ছিদ্র রয়েছে: দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি নাসারন্ধ্র, একটি মুখ এবং দুটি নিম্নাঙ্গ। বিশ্বাস করা হয় যে, মৃত্যুর সময় এবং তার ঠিক পরেই, দেহের শক্তি এবং অবশিষ্ট সূক্ষ্ম প্রাণবায়ু এই ছিদ্রগুলি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শক্তির এই অপ্রয়োজনীয় ক্ষরণ রোধ করতে এবং দেহের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে, নাক ও কানের মতো অঙ্গগুলি তুলা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়।

বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ

ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এই প্রথার পেছনে একটি গভীর বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক কারণও রয়েছে। আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেহ স্বাভাবিকভাবে পচন ধরতে শুরু করে এবং শরীরের ভেতরে গ্যাস জমতে থাকে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শিথিল হয়ে যাওয়ার কারণে কখনও কখনও নাক বা কান দিয়ে তরল পদার্থ বেরিয়ে আসতে পারে। এ ছাড়াও পরিচ্ছন্নতা ও মর্যাদা বজায় রাখতে, শেষযাত্রা শুরুর আগে এবং বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের আসা-যাওয়ার সময় কোনও অসুবিধা বা সংক্রমণ ছড়ানো এড়াতে শরীরের এই অংশগুলো তুলো দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

Advertisement

নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষার বিশ্বাস

লোকবিশ্বাস ও পুরান অনুসারে, দাহ করার আগে পর্যন্ত মৃতদেহ অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। বিশ্বাস করা হয়, শরীরের উন্মুক্ত অংশের মাধ্যমে যে কোনও অশুভ সূক্ষ্ম শক্তি বা পোকামাকড় দেহকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই মৃতের আত্মার শান্তি ও পবিত্রতা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
 

POST A COMMENT
Advertisement