
মধ্যবিত্তের জন্য কর ছাড় থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দাম কমা, কেন্দ্রীয় বাজেটে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে চর্চার মাঝেই প্রতিবছর নজরে থাকে লাল কভারে মোড়া ট্যাবের দিকেও।

কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার সকালে সংসদের বাইরে একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়ান দেশের অর্থমন্ত্রী। এই সংস্কৃতি এ দেশে এসেছে ব্রিটিশদের থেকেই। কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই লাল কভারে মোড়া ট্যাবে? কী থাকে তাতে?

১৮৬০ সালে ব্রিটিশ চ্যান্সেলর উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন ব্রিটেনের বাজেট ঘোষণার দিন একটি রাজপরিবারের প্রতীক দেওয়া লাল রঙের চামড়ার ব্রিফকেস নিয়ে আসেন বক্তৃতা করতে। সেই ব্রিফকেস পরে খ্যাতি পায় গ্ল্যাডস্টোন বক্স নামে।

বাজেট কথাটাই এসেছে ফ্রেঞ্চ শব্দ বুগেট থেকে। যার অর্থ ছোট চামড়ার ব্যাগ। দেশে প্রথম ওই প্রথা নিয়ে আসেন স্বাধীন ভারতের প্রথম অর্থমন্ত্রী সন্মুখম। তিনি গ্ল্যাডস্টোন বক্সের মতোই লাল চামড়ার ব্রিফকেস নিয়ে হাজির হন সংসদে। তার পর থেকে সেই ঐতিহ্য সমানে চলেছে।

জওহরলাল নেহরু ১৯৫৮ সালে বাজেট ঘোষণা করতে আসেন একটি কালো চামড়ার বাক্স নিয়ে। পরবর্তী কালে মনমোহন সিংহও কালো ব্যাগ হাতে বাজেট ঘোষণা করতে আসেন ১৯৯১ সালে। কালো বাজেটের ব্যাগ ব্যবহার করেছিলেন বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী জেটলিও।

১৯৯৮ সালে ব্রিফকেসের বদলে অ্যাটাচির মতো হ্যান্ডেল দেওয়া স্মার্ট চামড়ার ব্যাগ নিয়ে বাজেট পড়তে আসেন যশবন্ত সিনহা।

২০১৯ সালে বড় বদল আনেন নির্মলা সীতারামন। চামড়ার ব্যাগের বদলে আনলেন লাল শালুতে মোড়া হলুদ দড়ি দিয়ে বাঁধা খেরোর খাতা।

এটি ছিল লালা শালুতে মোড়া বাজেটের নথি ও তাঁর ওপর থাকতে অশোক স্তম্ভ। এটি বহি খাতা নামে পরিচিত ছিল। স্বস্তিক আঁকা থাকত সেটিতে। আর ১ টাকার কয়েন লাল সিঁদুর মাখিয়ে অশোক স্তম্ভের ছাপ।

২০২১ সালে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ট্যাব হাতে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তবে তা মোড়া ছিল লাল রঙের স্মার্ট কভারে।