ABG Shipyard: দেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিে কাঠগড়ায় এবিজি শিপইয়ার্ড। দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্ক দুর্নীতিকাণ্ডে শিরোনামে জাহাজ নির্মাণকারী সংস্থা এবিজি শিপইয়ার্ড। শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ২৮টি ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধোঁকা দিয়ে ২৮ হাজার ৮৪২ কোটি টাকার তছরূপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এবিজি শিপইয়ার্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান ঋষি অগ্রবালের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে প্রতারণা মামলা। এখন প্রশ্ন হল, দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক প্রতারণা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল?
কম দামে জমি বিক্রি
সেই ২০০৭ সালে এবিজি শিপইয়ার্ডকে অর্ধেক দামে বেআইনিভাবে ১.২১ লক্ষ স্কোয়ার মিটার জমি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল গুজরাট সরকারের বিরুদ্ধে। ওই বছরই গুজরাট বিধানসভায় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য তখন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অভিযোগ, তখন পুরসভার মূল্য অনুযায়ী জমির দাম ছিল ১৪০০ টাকা প্রতি স্কোয়ার ফুট। সেটাই ৭০০ টাকায় দেওয়া হয়েছিল এবিজি শিপইয়ার্ডকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এবিজি শিপইয়ার্ডকে সস্তায় জমি দেওয়ায় রাজ্যের কোষাগারে লোকসান হয়েছিল ৮.৪৬ কোটি টাকা। এবিজি কোনও দাতব্য সংস্থা নয় তা সত্ত্বেও কেন জলের দরে জমি দেওয়া হয়েছিল, উঠছে সেই প্রশ্ন।
কংগ্রেসের অভিযোগ
বিষয়টি নিয়ে তখন হইচই করেছিল বিরোধী কংগ্রেস। নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ওই সংস্থাকে কম দামে জমি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছিল তারা। সনিয়া গান্ধীর দল জানিয়েছে, ২০১৮ সালে এই দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিল তারা। কেন ৫ বছর তদন্ত করতে লেগে গেল, প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা। সেই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর জমানায় গুজরাট সরকার ওই সংস্থাকে অর্ধেক দামে পাইয়ে দিয়েছিল বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস।
গুজরাট সরকারের সাফাই
বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে গুজরাট সরকার ২০১০ সালে জানিয়েছিল, গুজরাটের মেরিটাইম বোর্ডের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে এবিজি। ওই মউ অনুযায়ী মেরিটাইম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করার কথা জানিয়েছিল ওই সংস্থা। সেজন্য সস্তায় জমি দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতা শক্তি সিং গোহিলের অভিযোগ, এবিজি শিপইয়ার্ড ও এবিজি সিমেন্টের সঙ্গে ভাইব্র্যান্ট গুজরাটের জন্য মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই তদন্ত সিবিআই করলে তথ্যপ্রমাণ সামনে আসবে না। বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক।
পিএনবি ব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত নীরব মোদী ও মেহুল চোকসি। কিন্তু সেই দুর্নীতিও ছাপিয়ে গিয়েছে এবিজি শিপইয়ার্ড। নির্মলা সীতারমন দাবি করেছেন, ব্যাঙ্কগুলির সংস্কার করেছে মোদী সরকার। তাদের আর্থিক স্বাস্থ্যের হাল ফিরেছে। ইউপিএ জমানায় এবিজি শিপইয়ার্ডের ঋণ অনুৎপাদক সম্পদে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকার ধরপাকড় করছে।
বলে রাখি, জাহাজ নির্মাণ এবং জাহাজ মেরামতির সঙ্গে এবিজি শিপইয়ার্ড স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (SBI)-সহ সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে তারা মোট ২৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিল। মোট অঙ্ক ২২,৮৪২ কোটি টাকা। সংস্থার তিন পরিচালক ঋষি অগ্রবাল, সন্থানাম মুথুস্বামী ও অশ্বিনী কুমারের বিরুদ্ধে শনিবার মামলা দায়ের করেছে সিবিআই।
আরও পড়ুন- 'যোগী'র কথায় বেতন ১৫ লক্ষ থেকে ১.৭০ কোটি! পাকড়াও সেবির