আদানি গ্যাসAdani Total Gas Stock: শেয়ার বাজারের অস্থিরতার আবহেও বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ল আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম সংস্থা ‘আদানি টোটাল গ্যাস’। গত তিন বছরে যে শেয়ারের দর প্রায় ৮৭ শতাংশ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল, গত তিন দিনে সেই শেয়ারই দেখাল ম্যাজিক।
৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩ শতাংশ উত্থান দেখে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে দালাল স্ট্রিটে। বুধবার বাজার বন্ধের সময় দেখা গেল, ১০ শতাংশের বেশি লাফ দিয়ে শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ৬২৩ টাকার উপরে। দীর্ঘমেয়াদী লোকসানের গ্লানি মুছে আদানির এই শেয়ার কি তবে এবার স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের পথে? আশার আলোর মাঝেও আশঙ্কার মেঘ দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
আচমকা এই উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার তপ্ত পরিস্থিতি। সংস্থাটি স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধের আবহে বেশ কিছু গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা জোগান ছাঁটাই করেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্প সংস্থায় গ্যাস সরবরাহের ওপর। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক নির্দেশে গার্হস্থ্য পাইপলাইন ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) এবং সিএনজি (CNG) বণ্টনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আদানি টোটাল গ্যাস এখন ঘরোয়া বাজারের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
আদানি টোটাল গ্যাসের এই গতিবিধি নিয়ে অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। ‘ওয়েলথমিলস সিকিউরিটিজ’-এর কৌশলী ক্রান্তি বাথিনি মনে করছেন, ঘরোয়া জোগানের ওপর জোর দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই শেয়ার কেনার আগ্রহ বেড়েছে। যারা ইতিমধ্যেই এই শেয়ার কিনে রেখেছেন, তাঁদের এখনই শেয়ার না ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, ‘বোনানজা’র প্রযুক্তিগত বিশ্লেষক কুণাল কাম্বলের মতে, এই হঠাৎ বৃদ্ধি স্থায়ী ট্রেন্ড রিভার্সাল নয়, বরং সাময়িক ‘শর্ট-কভারিং র্যালি’। সাপ্তাহিক চার্ট অনুযায়ী শেয়ারটির গঠন এখনও দুর্বল। তাই ৬৫০-৭০০ টাকার স্তরে পৌঁছালে একে বিক্রির সুযোগ হিসেবে দেখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।
৫৭ টাকার স্তরে শেয়ারটির একটি মজবুত সাপোর্ট থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদী চার্টে এটি এখনও নিম্নমুখী ট্রেন্ডলাইনের নিচেই ঘোরাফেরা করছে। ফলে বিনিয়োগের আগে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং পেশাদার পরামর্শদাতার সাহায্য নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। আদানির এই শেয়ারের দৌড় কতদূর থামে, এখন সেটাই দেখার।