হরমুজ প্রণালী নিয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী নিয়ে কিছুটা হলেও সুর নরম করল ইরান। রাষ্ট্রসংঘের এক শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই জলপথ সব ধরনের জাহাজের জন্য খোলা থাকছে। তবে শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। শত্রুপক্ষ বলতে এখানে ইজরায়েল ও আমেরিকাকে বোঝানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে না দেওয়া হলে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। তারপরই সুর নরম করল খামেইনেইয়ের দেশ।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে ইরানের প্রতিনিধি আলি মৌসাভি রবিবার জানিয়েছেন, 'ইরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন জাহাজগুলো তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় করে প্রণালী পার হতে পারবে।'
তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নাবিকদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ইরান। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরান ও আমেরিকাকে দায়ী করেন তিনি।
মৌসাভির কথায়, 'কূটনীতি এখনও ইরানের অগ্রাধিকার। তবে আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া এবং পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্গঠন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। তেহরান জানিয়েছিল, তারা এক ফোঁটা তেলও আমেরিকা, ইজরায়েল বা তাদের মিত্রদের কাছে পৌঁছাতে দেবে না।
এদিকে, এই পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নৌ জোট গঠনের চেষ্টা করছে। তবে ন্যাটোর অধিকাংশ দেশই ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। যা নিয়ে শুক্রবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশও করেথছিলেন ট্রাম্প।