আমাজনকে জরিমানাঅনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম আমাজনকে (Amazon) ১ লক্ষ টাকা জরিমানা। অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসাদ বলে সাধারণ মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে এই জরিমানা করেছে সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA।) অভিযোগ, রাম মন্দিরের প্রসাদ বলে সাধারণ মিষ্টি গছিয়ে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল।
আমাজনে ঠিক কীভাবে ওই মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছিল? কে অভিযোগ জানিয়েছিল? সংস্থার বক্তব্যই বা কী? গোটা বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক। আমাজনে চন্দু ট্রেডিং কোম্পানির বিহারি ব্রাদার্স ব্র্যান্ডের বেশ কিছু মিষ্টি বিক্রি হচ্ছিল। তালিকায় ছিল ঘিয়ের লাড্ডু, খোয়া লাড্ডু, লাড্ডু এবং গরুর দুধে তৈরি সন্দেশ। অনলাইন লিস্টিংয়ে এই মিষ্টিগুলিকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এমনকি 'ভগবান রামের আশীর্বাদ'-এর মতো শব্দও ব্যবহার করা হয়েছিল।
অভিযোগ, এভাবে মিষ্টি বিক্রির জন্য শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কাছ থেকে কোনও সরকারি অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর পদক্ষেপ করে CCPA। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের এমন একটি সংস্থা, যার মূল লক্ষ্য ক্রেতাদের অধিকার রক্ষা করা। কোনও সংস্থা মিথ্যা বিজ্ঞাপন বা বিভ্রান্তিকর দাবি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে CCPA-র।
CCPA-র বক্তব্য, কোনও বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ কোনও পণ্যকে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রসাদ হিসেবে বিক্রি করলে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হতে পারেন। সেই কারণেই আমাজনকে ১৫ দিনের মধ্যে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স বা CAIT-এর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়। CAIT দেশের ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসায়ীদের একটি জাতীয় সংগঠন।
CCPA-র চিফ কমিশনার নিধি খারে এবং কমিশনার অনুপম মিশ্র জানিয়েছেন, এই ধরনের তথ্য দেখে কোনও ভক্তের স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে মিষ্টিগুলি রাম মন্দিরের আসল প্রসাদ। অনুমতি ছাড়া কোনও মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করলে বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে।
এই ঘটনায় নিজেদের অবস্থান আমাজনও। সংস্থার দাবি, তারা শুধুমাত্র একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। পণ্যগুলি অন্য বিক্রেতারা বিক্রি করছিলেন। আমাজন শুধুমাত্র সেই পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিল।
তবে আমাজনের এই যুক্তি মানেনি CCPA। তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র অন্য কোনও বিক্রেতা পণ্যটি বিক্রি করছেন, এই যুক্তি দেখিয়ে আমাজন নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। প্ল্যাটফর্মে কোনও পণ্য কী নামে এবং কী পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে, সেই তথ্যও ক্রেতাদের কাছে সঠিক ভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে।
এই ঘটনার পর আরও কড়া হয়েছে নিয়ম। CCPA এই নির্দেশ শুধুমাত্র রাম মন্দির পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় আরও ১০টি বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কোনও পণ্যের সঙ্গে ‘প্রসাদ’, ‘মহাপ্রসাদ’ বা ‘ভোগ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে তা বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সার্টিফায়েড অনুমতি থাকা প্রয়োজন। এই তালিকায় রয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি, তিরুপতি দেবস্থানম, বৈষ্ণোদেবী এবং জগন্নাথ মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
সহজ কথায়, কোনও দোকানদার সাধারণ সন্দেশ তৈরি করে সেটিকে জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদ, রাম মন্দিরের প্রসাদ বা অন্য কোনও মন্দিরের প্রসাদ বলে বিক্রি করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমতি না থাকলে এই ধরনের দাবি বিভ্রান্তিকর হিসেবেই দেখা হবে।