বাজেটে Indian Army-র জন্য রেকর্ড বরাদ্দরবিবার বাজেটে ভারতীয় প্রতিরক্ষা খাতে বিরাট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। গতবারের তুলনায় বাজেট বাড়ল প্রতিরক্ষা খাতে। ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ কেন্দ্রীয় বাজেটে সেই বরাদ্দ বেড়ে হল ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে বরাদ্দের পরিমাণ। অঙ্কের বিচারে যা কিনা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরক্ষা খাতে বাজেটের এই বিপুল বৃদ্ধি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, গত বছর সিঁদুর অভিযানের পরও মোদী সরকার যে প্রতিরক্ষা খাতকে আরও ঢেলে সাজাতে ব্যস্ত- এবিষয়ে কেন্দ্রের যে স্পষ্ট মনোযোগ রয়েছে তা বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, এই বাড়তি বরাদ্দের মূল লক্ষ্য হল সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা, সেনার অস্ত্রের আধুনিকীকরণ ও সেনাকর্মীদের জন্য নানা কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া।
বাজেটের নথি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭-এর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে, প্রতিরক্ষা পরিষেবা,ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার ও প্রতিরক্ষা খাতে যুক্ত কর্মীদের পেনশন দেওয়ার অর্থও। বাজেটের তথ্য অনুসারে, প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি বড় দিক হল ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (পুঁজিগত ব্যয়)-এ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২৮ শতাংশ বেড়ে ২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। যেখানে গত বছর বরাদ্দ ছিল ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা। এই বাড়তি বরাদ্দ থেকেই স্পষ্ট যে সরকার উন্নত অস্ত্র সিস্টেম কিনতে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন জোরদার করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য বিষয় হল, গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে GDP-র অনুপাতে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অংশ ধীরে ধীরে কমেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫–১৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল ২.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা। যা ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রতিরক্ষা বিমান চলাচল এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে পারমাণবিক শক্তি এবং পরিষ্কার শক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে মৌলিক শুল্ক (বিসিডি) ছাড় এবং শুল্ক হ্রাসের একটি সিরিজ ঘোষণা করেছেন।