কৃষি ক্ষেত্রে বাজেট ২০২৬কৃষি ও পশুপালন সহ কৃষিক্ষেত্রে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জানালেন, ভারতে কৃষি উত্পাদন বাড়াতে AI (Artificial Intelligence) টুল লঞ্চ করা হবে। আখরোট, বাদাম, পাইন নাট উত্পাদন করে যাতে কৃষকদের আয় বাড়ে, তার জন্য বাজেটে আলাদা করে জোর দেওয়া হল। এছাড়াও মত্স্যজীবীদের জন্যও একাধিক বড় ঘোষণা করা হল বাজেটে, যাতে মাছচাষিদেরও আয় বাড়ে।
কাজু চাষিদের জন্য বড় ঘোষণা
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানালেন, চন্দন কাঠের প্রক্রিয়াকরণ বাড়াতে রাজ্যগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করা হবে। পাশাপাশি, কাজু ও কোকো উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। বললেন, 'নারকেল উৎপাদন বাড়াতে একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে নারকেল ও কাজুর মতো উচ্চমূল্যের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাতে কাজ করা হবে।' পশুপালনের ক্ষেত্রে ক্রিডেট-লিঙ্কড সাবসিডির সুবিধা ঘোষণা করা হল। উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ চাষের সম্পূর্ণ ভ্যালু চেন আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি, মৎস্য খাতের উন্নয়নের জন্য ৫০০টি জলাশয় উন্নত ও গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির কৃষকদের সুবিধা হবে
দেশে কাজু, নারকেল ও চন্দন চাষে উত্সাহ দিতে একাধিক ঘোষণা করা হল বাজেটে। এর জেরে উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির কৃষকদের সুবিধা হবে। আয়ও বাড়বে। যেমন কাজু উত্পাদন বেশি হয়, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, কেরল, ওড়িশা ও তামিলনাড়ুর উপকূলে। কেন্দ্রের এই বাজেট প্রস্তাবে লাভবান হবেন পশ্চিমবঙ্গের কাজু চাষিরাও। কাজু চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ খাত দেশে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান, যার মধ্যে বিশেষ করে প্রসেসিং ইউনিটগুলিতে বিপুল সংখ্যক মহিলা কাজ করেন। কাজু গাছে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে, আর ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদনে পৌঁছয়। এই ফসল তুলনামূলকভাবে কম সময়ে ফলন দেয়, সে কারণেই সরকার কাজু চাষের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কাজুর কাটাইয়ের সময় নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত চলে, এবং গ্রীষ্মের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়।
নারকেল চাষিদের জন্য ঘোষণা
উপকূলীয় এলাকায় নারকেল চাষিদের জন্যও একাধিক ঘোষণা করা হল বাজেটে। এই উদ্যোগে কেরল ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারকেল উৎপাদক দেশ। দেশের মোট নারকেল উৎপাদনের ৯০ শতাংশেরও বেশি আসে কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। নারকেল মূলত উষ্ণ আবহাওয়ায় ভাল হয় এবং এর জন্য প্রয়োজন ভাল জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা-যুক্ত বেলে দোঁআশ মাটি।