সাহায্য কমল বাংলাদেশেরকিছু দেশকে প্রতিবছর আর্থিক সাহায্য করে থাকে ভারত। সেই মতো ঘোষণা হয় বাজেটে। আর এবারের বাজেট ঘোষণায় বাংলাদেশের আর্থিক সাহায্য একবারে অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই ঘোষণা থেকেই স্পষ্ট যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঠিক কতটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
কত টাকা পাবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশকে সাহায্যের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করত ভারত। তবে এই বাজেটে সেটা কমিয়ে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উল্টো দিকে ভারতের অন্যান্য প্রতিবেশীর জন্য অর্থ সাহায্যের পরিমাণ একই রয়েছে বা বাড়ানো হয়েছে।
এই রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায় যে চলতি আর্থিক বর্ষে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু বাস্তবে সেই সাহায্যের পরিমাণ মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। আর সেটা যে দুই দেশের খারাপ সম্পর্কের জন্যই হয়েছে, এই কথা তো বলাই বাহুল্য!
কার ঝুলিতে বরাদ্দ বাড়ল?
ভুটানের জন্য সবথেকে বেশি আর্থিক সাহায্য বরাদ্দ করেছে ভারত। তারপর এই তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে নেপাল, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কা।
“Aid to Countries” প্রকল্পের মাধ্যমে এই সাহায্য করা হয় বেশ কিছু দেশকে। আগের বছর এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৫৪৮৩ টাকা। তবে এই বছর তা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৮৩ কোটি টাকা।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারের বাজেটে ছাবাহার বন্দর প্রোজেক্ট নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য হয়নি। ২০২৪-২৫ সালে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করেছে ভারত। এমনকী ২০২৫-২৬ বাজেটে প্রথমে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল এর জন্য। তারপর সেটি আবার বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থিক বর্ষে এই প্রকল্পের জন্য কোনও খরচের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মাথায় রাখতে হবে যে ২০২৪ সালে ছাবাহারে শহিদ বেহেস্তি টার্মিনালের জন্য ১০ বছরের চুক্তি হয়। এই টর্মিনাল হলে আফগানিস্তান এবং সেন্ট্রাল এশিয়ার পৌঁছনো যাবে পাকিস্তানকে এড়িয়ে। তাই এটা খুবই জরুরি একটি প্রোজেক্ট। যদিও সেই প্রকল্পেই এবার কোনও টাকা বরাদ্দ হল না। যার ফলে বিষয়টা নিয়ে চিন্তা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।
ও দিকে ভুটানের জন্য এবার বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬ শতাংশ বাড়িয়ে এটি ২২৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ শতাংশ বেড়ে নেপালের জন্য বরাদ্দ ৮০০ কোটি হয়েছে। মাঝখান থেকে ফেঁসে গেল বাংলাদেশ। তাঁদের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হল অনেকটাই।