প্রতীকী ছবি কম আয় এবং সীমিত নথিপত্র থাকা গ্রাহকদের জন্য ১০-১৫ লাখ টাকার হোম লোনের বাজার এখনও অ্যাফরডেবল হাউজিং ফিনান্স কোম্পানি বা AHFC-গুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে টিয়ার-২ ও ছোট শহরের গ্রাহকদের মধ্যে এই ধরনের ঋণের চাহিদা রয়েছে। তবে এই বাজারে এখন বড় নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি বা NBFC এবং অন্যান্য হাউজিং ফাইন্যান্স সংস্থার প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।
২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সিস্টেমেট্রিক্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪২টি শাখায় করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৬০-৬৫ শতাংশের বেশি গ্রাহক ১০-১৫ লাখ টাকার লোন সেগমেন্টের মধ্যে পড়ছেন। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা এবং রাজস্থানের বিভিন্ন শাখায় এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
ছোট শহরের গ্রাহকরাই বড় বাজার
এই লোন সেগমেন্টে মূলত টিয়ার-২ এবং ছোট শহরের গ্রাহকদের দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকের নিয়মিত আয় থাকলেও সেই আয়ের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক নথি সীমিত। ফলে বড় ও প্রচলিত ব্যাঙ্ক থেকে হোম লোন পাওয়া অনেক সময় তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের গ্রাহকদের আয় হিসাব করার সময় ঋণদাতা সংস্থাগুলি যথেষ্ট সতর্ক থাকে। কোনও গ্রাহক মাসে ২০-২৫ হাজার টাকার বেশি আয় করেন বলে দাবি করলেও, লোন দেওয়ার সময় হিসাবযোগ্য আয় অনেক ক্ষেত্রে ওই স্তরের কাছাকাছি ধরা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন এবং আগে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছেন, এমন গ্রাহকরা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।
৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত LTV
কম আনুষ্ঠানিক আয় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সম্পত্তির পুরো মূল্যের তুলনায় তুলনামূলক কম ঋণ দেওয়া হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে LTV সাধারণত ৫০-৭০ শতাংশের মধ্যে থাকে।
লোন দেওয়ার আগে শুধু গ্রাহকের ব্যক্তিগত আয় নয়, পরিবারের মোট আয় এবং আয়ের অন্য উৎসগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি গ্রাহক কোথায় কাজ করেন, তাঁর কর্মস্থল এবং অন্যান্য তথ্য সরেজমিনে যাচাই করাও লোন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বড় NBFC-র সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
১০-১৫ লাখ টাকার হোম লোনের বাজারে চাহিদা থাকায় এই ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরে তালিকাভুক্ত নয় এমন AHFC-গুলিও সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে বড় NBFC-গুলি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ক্রেডিট প্রোফাইল এবং বেশি পরিমাণ ঋণ নিতে পারেন এমন গ্রাহকদের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।
রিপোর্টে পিরামল হাউজিং ফাইন্যান্স, চোলামণ্ডলম, টাটা ক্যাপিটাল, মাহিন্দ্রা ফাইন্যান্স, টাইগার হোম ফাইন্যান্স, রেপকো হোম ফাইন্যান্স, স্টার হাউজিং ফাইন্যান্স এবং ফিনোভা ফাইন্যান্স।-এর মতো সংস্থার বিভিন্ন বাজারে প্রতিযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু কম সুদে হবে না, দ্রুত লোনও জরুরি
এই বাজারে শুধুমাত্র কম সুদের হার দেওয়াই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাঁদের আয় পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক নথিতে ধরা পড়ে না, তাঁদের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে আয় যাচাই করার পাশাপাশি দ্রুত লোন দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় এলাকায় শক্তিশালী শাখা নেটওয়ার্ক, গ্রাহকের বাড়ি ও কর্মস্থলে গিয়ে তথ্য যাচাই এবং গ্রাহকের প্রয়োজন বোঝার ক্ষমতা এই সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছনোর পাশাপাশি কানেক্টর নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও লোনের আবেদন সংগ্রহে জোর দিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।
পুরনো শাখায় ব্যবসা বাড়ানো কঠিন
Systematix-এর সমীক্ষায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা শাখাগুলির পক্ষে দ্রুত ব্যবসা বাড়ানো এখন তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠছে।
যেসব শাখার অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট বা AUM প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকার বেশি অথবা যে শাখাগুলি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে, সেখানে নতুন গ্রাহক বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন শহর ও নতুন এলাকায় শাখা খোলার দিকে নজর দিচ্ছে সংস্থাগুলি। নতুন বাজারে প্রবেশ করে ব্যবসার বৃদ্ধির গতি ধরে রাখাই এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
বৃষ্টির প্রভাব কাটিয়ে লোন বিতরণে উন্নতির আশা
বর্ষার কারণে কিছু সময়ের জন্য ঋণ দেওয়ার কার্যক্রমে মৌসুমি প্রভাব পড়লেও সামনে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংস্থাগুলি।
Systematix-এর শাখাভিত্তিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, কয়েকটি বাজারে লোন বিতরণে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ৩-৭ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতির আশা রয়েছে।
অর্থাৎ, ছোট শহরের ১০-১৫ লাখ টাকার হোম লোন বাজারে চাহিদা এখনও রয়েছে। সেই বাজার ধরতে AHFC-র পাশাপাশি বড় NBFC এবং অন্যান্য হাউজিং ফাইন্যান্স সংস্থাগুলিও সক্রিয় হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে ছোট শহরের এই সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।