এবার ওষুধে ২০০% কর আরোপ করছেন ট্রাম্পফের শুল্ক নিয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর, এবার এবার সমস্ত জেনেরিক ওষুধের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে এমনিতেই বেড়েছে উত্তেজনা, তারমধ্যেই ট্রাম্পের পদক্ষেপে ফের নয়া আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য বিষয় হল, ভারতও আমেরিকায় প্রচুর পরিমাণে ওষুধ রফতানি করে। সেক্ষেত্রে ভারতের উপরেও এর প্রভাব রয়েছে। তবে পাশাপাশি সুযোগও কিন্তু রয়েছে বিস্তর।
তবে শুধুমাত্র ২০০ শতাংশ শুল্ক নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই বছরের জন্য ০ শুল্কের কথাও বলেছেন। যা ভারতের জন্য বড়সড় স্বস্তির বিষয়। কারণ আমেরিকা ভারতীয় জেনেরিক ওষুধের একটি বড় বাজার। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারত ২০২৫ সালে আমেরিকায় ৯.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জেনেরিক ওষুধ রফতানি করেছে, যা মোট ২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ওষুধ রফতানির ৩৮ শতাংশ।
দুই বছর 'শূন্য', তারপর ১০০-২০০ শতাংশ শুল্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যাল' মিডিয়ায় এই বিষয়ে পোস্ট করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ১ অগাস্ট থেকে শুরু করে ২ বছরের জন্য আমেরিকায় আমদানি করা সমস্ত জেনেরিক ওষুধের উপর ০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এর ২ বছর পর পরবর্তী এক বছরের জন্য এই জেনেরিক ওষুধগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে এবং তারও পরে বাড়িয়ে ২০০% করা হবে।
আমেরিকায় ৯০% ওষুধই জেনেরিক
আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, আমেরিকায় বিক্রি হওয়া ৯০ শতাংশেরও বেশি ওষুধ জেনেরিক। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পেটেন্ট নেওয়া, ব্র্যান্ডেড ওষুধ সংক্রান্ত নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনছেন না।
ভারতের উপর প্রভাব কেন?
মার্কিন মুলুকে ব্যবহৃত প্রতিটি পাঁচটি জেনেরিক ওষুধের মধ্যে একটি ভারত থেকে আসে। ভারতকে 'বিশ্বের ঔষধালয়' বলা হয়। শুধু আমেরিকাতেই ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের জেনেরিক ওষুধ রফতানি করে দিল্লি। এদেশের সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধগুলো লক্ষ লক্ষ আমেরিকানদের জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে অ্য়াক্টিভ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার ফলে আমেরিকায় ভারতের বিশাল জেনেরিক ওষুধের ব্যবসা দুই বছরের জন্য একেবারে ০ শুল্কেই রফতানি হতে থাকবে।
অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ রফতানির উপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। ২ বছর পর ১০০ শতাংশ ও তারওপরে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হলেও ওষুধ কোম্পানিগুলি এই ক্ষেত্রে নিজেদের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে পারবে। এই সময়ে, ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ কোম্পানিগুলো মার্কিন মুলুকে নিজেদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে ও স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধে ওষুধ উৎপন্ন করতে পারে।