দাম বাড়তে পারে অনেক জিনিসের সাম্প্রতিক পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খুব শীঘ্রই গৃহস্থালীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে পড়তে চলেছে, হেঁশেল। মুদিখানার সামগ্রী থেকে শুরু করে অনলাইন ডেলিভারি মহার্ঘ হতে চলেছে। দাম বাড়তে পারে ওষুধেরও।
ভারতের পরিবহণ শিল্প এখন আনুষ্ঠানিক ভাবে বাড়তি জ্বালানি খরচ ব্যবসাগুলির উপর চাপাতে শুরু করেছে। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব আর শুধু পেট্রোল পাম্পে সীমাবদ্ধ নেই। বরং তা বৃহত্তর অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহে জারি করা এক জরুরি সার্কুলারে অল ইন্ডিয়া ট্রান্সপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করেছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর আশপাশে বিঘ্নের কারণে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
অ্যাসোসিয়েশনটি ২০ মে থেকে দেশজুড়ে একটি ফুয়েল অ্যাডজাস্টমেন্ট ফ্যাক্টর চালু করছে। যার ফলে ডিজেলের দাম বাড়লেই পরিবহণকারীরা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবেন।
এই পদক্ষেপ সরাসরি FMCG কোম্পানি, প্রস্তুতকারক, খুচরো বিক্রেতা ই-কমার্স সংস্থা এবং খাদ্য সরবরাহকারীদের লজিস্টিক খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। যে খরত শেষ পর্যন্তক উপভোক্তদের উপরই চাপানো হয়।
একটি ট্রাক চালানোর মোট খরচের প্রায় ৬৫% শুধু ডিজেল খরচ হয়। তাই অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ডিজেলের দাম প্রতি ১ টাকা বাড়লে পরিবহণ খরচ ০.৬৫% বৃদ্ধি পাবে।
অর্থাৎ
> ডিজেলের দাম ৫ টাকা বাড়লে মাল পরিবহণের ভাড়া ৩.২৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
> ১০ টাকা বাড়লে পরিবহণ খরচ ৬.৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
> ১৫ টাকা বাড়লে পরিবহণের ভাড়া প্রায় ১০% বাড়বে।
শাকসবজি, ফলমূল, দুগ্ধজাত পণ্য, FMCG সামগ্রী, ওষুধ, নির্মাণ সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স এবং ই-কমার্স ডেলিভারি সহ বেশিরভাগ পণ্য দোকান ও গোডাউনে পৌঁছানোর আগে ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়। পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়লে, কোম্পানিগুলো সাধারণত সেই বোঝা আংশিকভাবে বাড়িয়ে দেবে।
অর্থাৎ
> মুদিখানার পণ্যের দাম বাড়তে পারে
> খাদ্য সরবরাহ এবং ই-কমার্স লজিস্টিকস আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে
> প্রভাব বিশেষত সেইসব পণ্যের ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে, যেগুলো দূরপাল্লার ট্রাক পরিবহণের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল