প্রতীকী ছবি বিনিয়োগ করা জরুরি। তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল এমারজেন্সি ফান্ডিং। এটি শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো সরাসরি লাভ না দিলেও, আপনার ভবিষ্যতের সব বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
এমারজেন্সি ফান্ডিং কী?
এরামজেন্সি ফান্ডিং হল এমন একটি ফান্ড যা হঠাৎ করে আসা কোনও বিপদে আপদে কাজে লাগে। বিপদ কখনও বলে আসে না। সেজন্য এমারজেন্সি ফান্ডিং খুব জরুরি। যেমন, চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা, চাকরি হারানো, বাড়ির জরুরি মেরামত ও অন্যান্য আর্থিক চাপে জরুরি ফান্ডিং প্রয়োজনীয়।
এমারজেন্সি ফান্ডিং কোনওভাবেই কেনাকাটা বা ভ্রমণের মতো ঐচ্ছিক খরচের জন্য নয়। বরং এই ফান্ডকে যে কোনও মূল্য খরচ না করা উচিত।
কেন বিনিয়োগের আগে জরুরি তহবিল?
CFPCM-এর ডিরেক্টর চারু পাহুজার মতে, 'বিনিয়োগ শুরু করার আগে এমারজেন্সি ফান্ডিং করা দরকার। হতে পারে আপনি সেখান থেকে সুদ পাবেন না তবে প্রয়োজনে এই ফান্ডই আপনাকে বাঁচাবে।'তাঁর আরও পরামর্শ, জরুরি কারণ ছাড়া কোনওমতেই সেই টাকা তোলা উচিত হবে না। বলেন, 'এটাকে কুশানের মতো ভাবুন।'
কত টাকা রাখা উচিত?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ৩ থেকে ৬ মাসের প্রয়োজনীয় খরচের সমান অর্থ জরুরি তহবিলে রাখা উচিত। যাতে বাড়ি ভাড়া বা EMI, বাজার খরচ, বিদ্যুৎ/জল বিল, বিমা প্রিমিয়াম মেটাতে পারেন।
আপনি যদি স্বনির্ভর হন, একা থাকেন তাহলে ৩ মাসের তহবিল যথেষ্ট হতে পারে। আর আপনার উপর যদি পরিবার নির্ভরশীল থাকে তাহলে ৬–১২ মাসের তহবিল রাখা আরও নিরাপদ।
ছোট থেকে শুরু করুন
সবার পক্ষে বেশি টাকা একবারে এমারজেন্সি ফান্ডে রাখা সম্ভব নয়। তাই বড় অঙ্কের টাকা রাখতেও হবে না। আপনি মাসে ৫০০ বা ১০০০ দিয়েও শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকুন। ৩ মাসের খরচের সমান টাকা জমে গেলে, বিনিয়োগ শুরু করেও এই তহবিল বাড়াতে থাকুন।
কোথায় রাখবেন?
মনে রাখবেন এমারজেন্সি ফান্ডিংয়ের লক্ষ্য বেশি লাভ পাওয়া নয়। বরং সহজে টাকা পাওয়া। ৩০–৪০% রাখুন সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা সুইপ-ইন FD-তে। ৬০–৭০% রাখুন লিকুইড বা ওভারনাইট মিউচুয়াল ফান্ডে।
এমনিতে সেভিংস অ্যাকাউন্টে সাধারণত ২.৫–৪% সুদ মেলে। কিন্তু টাকা তোলার সুবিধা থাকে। লিকুইড ফান্ডে সাধারণত ১ কর্মদিবসের মধ্যে (T+1) টাকা পাওয়া যায় এবং তুলনামূলক ভালো রিটার্ন দেয়।