Financial Wellness: ভাল অ্যাপ্রেইজালেও বেশির ভাগ কর্মীই আর্থিক অবসাদে ভুগছেন, এ বার কী স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে কোম্পানিগুলি? বিস্তারিত

বেশিরভাগ সংস্থাতেই কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা মূলত অ্যাপ্রেইজাল এবং বেতন বৃদ্ধি বা ক্ষতিপূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও বেতন বৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে তা মাসিক ঋণের কিস্তি EMI, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, স্বাস্থ্যব্যয় এবং পারিবারিক দায়িত্বের মতো চলমান আর্থিক চাপের স্থায়ী সমাধান করতে পারে না। 

Advertisement
ভাল অ্যাপ্রেইজালেও বেশির ভাগ কর্মীই আর্থিক অবসাদে ভুগছেন, এ বার কী স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে কোম্পানিগুলি? বিস্তারিতকর্মীদের আর্থিক অবসাদ সামলাতে কী পদক্ষেপ করছে কোম্পানিগুলি
হাইলাইটস
  • আর্থিক অবসাদের সমস্যা শুধুমাত্র মাইনেতে মেটে না
  • কর্মীদের আর্থিক অবসাদের প্রভাব পড়ছে উত্‍পাদনে
  • ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ

২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার প্রস্তুতি চলছে কোম্পানিগুলিতে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি কর্মীদের ভাল থাকার জন্য বর্তমানে আর পর্যাপ্ত নয়। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে, সব মিলিয়ে আর্থিক অবসাদ প্রভাব ফেলছে কর্মীদের উত্‍পাদনশীলতায়। যার নির্যাস, শুধু বেতন বা আর্থিক ক্ষতিপূরণকেন্দ্রিক নীতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, কর্মীদের সার্বিক আর্থিক সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সুসংগঠিত আর্থিক সুস্থতা কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থাকে।

এয়ারপে মানি সংস্থার সিইও কুমার বিনীত মনে করছেন, কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা (আর্থিক ভাবে ভাল থাকা) এখন ব্যবসার অন্যতম প্রায়োরিটি। এতদিন পর্যন্ত যা ছিল, স্রেফ কর্মীদের বেনিফিট মাত্র। তাঁর মতে, কর্মীরা কত বেতন পান, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত তাঁরা সেই অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারেন তার ওপর।

আর্থিক অবসাদের সমস্যা শুধুমাত্র মাইনেতে মেটে না

বেশিরভাগ সংস্থাতেই কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা মূলত অ্যাপ্রেইজাল এবং বেতন বৃদ্ধি বা ক্ষতিপূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও বেতন বৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে, তবে তা মাসিক ঋণের কিস্তি EMI, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, স্বাস্থ্যব্যয় এবং পারিবারিক দায়িত্বের মতো চলমান আর্থিক চাপের স্থায়ী সমাধান করতে পারে না। 

বিনীতের মতে, একই বেতন পেলেও আর্থিক পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগের ওপর নির্ভর করে কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার মাত্রা একেবারেই ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, সংস্থাগুলিকে আরও বিস্তৃত কিছু বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন, কর্মীরা তাঁদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধার কাঠামো কতটা বুঝতে পারছেন, সংস্থার দেওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলি কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাচ্ছেন এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তাঁদের রয়েছে কি না, এই প্রশ্নগুলিরও উত্তর খুঁজতে হবে।

কর্মীদের আর্থিক অবসাদের প্রভাব পড়ছে উত্‍পাদনে

সাম্প্রতিক রিসার্চে দেখা গিয়েছে, ভারতের প্রায় ৫৫ শতাংশ কর্মী আর্থিক অবসাদে ভুগছেন। স্থিতিশীল ও দুশ্চিন্তাবিহীন ভাবে মাসের সব খরচ মেটাতে পারছেন না ১৪ শতাংশ কর্মী। মাসের সব খরচ মেটানোর পরে কর্মীর অ্যাকাউন্টে একটাকাও থাকছে না বা খুব কম টাকা থাকছে, এমন ৪২ শতাংশ কর্মী রয়েছেন। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন কমবয়সি কর্মীরা। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৮৫ শতাংশ Gen Z কর্মী দাবি করছেন, আর্থিক অবসাদ তাঁদের মানসিক অবসাদেও পরিণত হচ্ছে। ৭১ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, দিনের পর দিন টাকার চিন্তায় প্রোডাক্টিভিটি কমে যাচ্ছে। 

Advertisement

তা হলে উপায় কী?

সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, শুধুই বার্ষিক মাইনে বাড়ানোটাই সমস্যার সমাধান নয়। কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত ফাইন্যান্সিয়াল ওয়েলনেস ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংস্থাগুলিকে ক্রমশ আরও বেশি উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কীভাবে তা করা হবে?

কর্মীদের আর্থিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংস্থাগুলিকে যে বিষয়গুলির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে,
আর্থিক শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়ার ব্যবস্থা।
নগদ অর্থের প্রবাহ (ক্যাশ-ফ্লো) ও ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর সরঞ্জাম।
জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বশীলভাবে অর্জিত বেতনের একটি অংশ আগাম পাওয়ার সুবিধা।
দ্রুত ও সহজ রিইম্বার্সমেন্ট বা খরচ ফেরতের ব্যবস্থা।
বেতন, কর্মী-সুবিধা ও সঞ্চয় সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য এক জায়গায় পাওয়ার জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

বিনীতের মতে, কর্মীদের যেন বেতন, রিইমবার্সমেন্ট, বিভিন্ন সুবিধা এবং আর্থিক পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য একাধিক পোর্টালে ঘুরে না বেড়িয়ে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকেই পাওয়া যায়। তবে তিনি এ-ও সতর্ক করেছেন, জরুরি প্রয়োজনে আগাম বেতন তোলার সুবিধার সঙ্গে উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাও থাকতে হবে, যাতে কর্মীরা বারবার আগাম বেতন তোলার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন।

ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ

এখন আর্থিক সুস্থতাকে শুধু কর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বা কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কর্মীদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে, কাজের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করতে পারে এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতাও বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, নতুন কর্মী নিয়োগ, তাঁদের অনবোর্ডিং করা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সংস্থাকে উল্লেখযোগ্য খরচ বহন করতে হয়। তাই দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা এখন সংস্থাগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক লক্ষ্য।

POST A COMMENT
Advertisement