ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হারফিক্সড ডিপোজিট নিরাপদ বিনিয়োগ। ফলে অনেকেই এফডি করান। সুদের হারও বেশ ভাল। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি তো মোটা সুদ দেয়ই, এবার সরকারি ব্যাঙ্কেও দারুণ রিটার্ন পেতে পারেন। সঞ্চয়ের টাকা এফডিতে রাখার কথা ভাবলে এই ব্যাঙ্ককে বেছে নিতে পারেন। টাকা রাখতে হবে ৫৫৫ দিন। চলুন পুরোটা জেনে নেওয়া যাক।
দুটি বিশেষ মেয়াদের এফডি স্কিমে সুদের হার বাড়িয়েছে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক। ৫৫৫ দিনের ইন্ড গ্রো এবং ৭৭৭ দিনের ইন্ড প্রসপার স্কিমে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে ০.১৫ শতাংশ। নতুন সুদের হার কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ৫৫৫ দিনের ইন্ড গ্রো স্কিমে সাধারণ গ্রাহকরা বার্ষিক ৬.৮০ শতাংশ হারে সুদ পাবেন। অন্যদিকে, ৭৭৭ দিনের ইন্ড প্রসপার স্কিমে বার্ষিক সুদের হার ৬.৭৫ শতাংশ।
সিনিয়র সিটিজেনদের বাড়তি সুদ
প্রবীণ নাগরিকরা পাবেন বাড়তি সুবিধা। সাধারণত ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক সিনিয়র সিটিজেনদের সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় ০.৫০ শতাংশ বেশি সুদ দিয়ে থাকে। অতি প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদের হার ০.৭৫ শতাংশ। তবে টাকা জমা রাখার আগে নিজের বয়স অনুযায়ী ঠিক কত সুদ পাওয়া যাবে, তা ব্যাঙ্কের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।
এই দুটি স্কিমে টাকা জমা রাখলে আগের তুলনায় বেশি রিটার্ন পাবেন গ্রাহকরা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া রেপো রেট বাড়ানোর পরেই ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্ত। অক্টোবরের গোড়ায় আরবিআই রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করা হয়েছিল।
করমুক্ত নয় এফডি
ফিক্সড ডিপোজিট থেকে পাওয়া সুদ পুরোপুরি করমুক্ত নয়। সাধারণত এই সুদকে অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসাবে গণ্য করা হয়। বিনিয়োগকারীর মোট করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যোগ করা হয়। সেই অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীর আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী সুদের উপর কর দিতে হতে পারে। এছাড়া ব্যাঙ্ক সুদের টাকা থেকে টিডিএসও কাটতে পারে।
বিনিয়োগের আগে কী কী মাথায় রাখবেন?
ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের এই এফডি স্কিমে বিনিয়োগ করতে চাইলে শুধু সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আমানতের মেয়াদ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তুলে নেওয়ার শর্ত এবং নিজের আর্থিক প্রয়োজনের কথাও মাথায় রাখা জরুরি। এছাড়া সুদ দেওয়ার পদ্ধতি এবং করের পরিমাণও প্রকৃত রিটার্নের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে ব্যাঙ্কের সমস্ত শর্ত ও সুদের হার যাচাই করে নিন।