আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট ২০২৬পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রীর মতো একাধিক প্রকল্প, কোথাও আবার লাডলি বেহনা যোজনা, কোথাও ঋণে সুদ মকুব, অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দিয়ে দেয় সরকার, সম্প্রতি বিহার বিধানসভা ভোটের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া, সরকারি ভাতার পরিমাণ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে ভারতে। চটজলদি জনপ্রিয় হওয়া বা ভোটব্যাঙ্ককে দ্রুত প্রাভাবিত করার লক্ষ্যে, রাজনৈতিক দলগুলির ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বেড়েই চলেছে। ঠিক এখানেই সমস্যা। বাজেটের আগে পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey 2025-26) ভাতার খরচ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করা হল। একাধিক প্রকল্পের নামে দেদার ভাতা দেওয়ার যে প্রবণতা, তাতে যে কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আর্থিক সমীক্ষায়।
দেদার ভাতা প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ আর্থিক সমীক্ষায়
ভারতের আর্থিক সমীক্ষা (Economic Survey 2025-26) রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেদার ভাতা দেওয়ার জেরে রাজ্যগুলির আর্থিক ভারসাম্য দুর্বল হতে পারে। যার প্রভাব পড়ে উন্নয়মূলক কাজে। উৎপাদনশীল খাতে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, বাড়িতে বসে অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসার যে ট্রেন্ড চলছে, তার জেরে উত্পাদন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে রাজ্যগুলিতে। যার প্রভাব পড়বে আর্থিক বৃদ্ধির হার বা GDP-তেও।
সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর ট্রেন্ড
সার্ভেতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাজ্যগুলির রাজস্বখাতে ব্যয় ক্রমেই একাধিক ভাতা প্রকল্পের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার যে ট্রেন্ড চলছে, সেই টাকা মূলত রাজ্যগুলির রাজস্ব থেকেই ব্যয় করা হচ্ছে। যার ফলে পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে মূলধনী ব্যয় বাড়ানোর ক্ষমতা রাজ্যগুলির ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এই ধরনের ট্রেন্ড চলতে থাকা রীতিমতো আশঙ্কাজনক।
রাজ্যগুলির বড়সড় ঘাটতির আশঙ্কা
আর্থিক সমীক্ষা রপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, শর্তহীন নগদ টাকা সহায়তা প্রকল্পগুলিতে মোট খরচ ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এর মধ্যে বহু প্রকল্পই মহিলাদের জন্য চালু করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই ধরনের প্রকল্প চালু করা রাজ্যের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সমীক্ষা বলছে, এই রাজ্যগুলির প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। তাই সার্ভেতে সতর্ক করা হয়েছে, নগদ টাকা সহায়তা প্রকল্প, সোজা কথায় ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেয় এবং পরিবারের নানা চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রকল্পগুলির দ্রুত বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী মধ্য মেয়াদে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন এর সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকে।
সার্ভেতে বলা হচ্ছে, যে সব রাজ্য ইতিমধ্যেই আর্থিক ভাবে দুর্বল, তারা যদি এই হারে ভাতা দিতে থাকে, তাহলে বড়সড় আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়বে। যার প্রভাব সরাসরি উন্নয়নে পড়বে। সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা জনকল্যাণমূলক খরচের বিরোধিতা করছে না। বরং রাজ্যগুলিকে বাজেটের অগ্রাধিকার নতুন করে ঠিক করার পরামর্শ দিচ্ছে। ‘ফ্রিবি’ বা দেদার ভাতা প্রকল্প এই ভাবে বাড়তে থাকলে রাজ্যগুলির আর্থিক বৃদ্ধির ভিত্তি ভেঙে পড়তে পারে।