দোকানে দোকানে সোনা কেনার হিড়িকপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অন্তত এক বছর সোনা না কেনার আর্জি জানালেও, ফল হল উল্টো। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের আঁচ এড়াতে বড় বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য ভারতের অর্থনীতিতে যাতে আঁচ না পড়ে। এূবং বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারকে স্থিতিশীল রাখা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র। সরকারি বিধিনিষেধের আশঙ্কায় দেশজুড়ে গয়নার দোকানগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। বিয়েবাড়ির কেনাকাটা সারতে হুড়োহুড়ি গ্রাহকদের।
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পর থেকেই আমজনতার মনে দানা বেঁধেছে নতুন আতঙ্ক। জুনের শুরু থেকে অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিয়ের মরসুম। তার আগে সোনা কেনার ওপর কোনও কঠোর বিধিনিষেধ আসতে পারে। এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই গয়না কিনে রাখতে চাইছেন সাধারণ মানুষ। গ্রাহকরা আশঙ্কিত, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, জিএসটি হার বৃদ্ধি বা সোনা কেনার পরিমাণের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি হতে পারে।
অল ইন্ডিয়া জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাজেশ রোকড়ে জানান, গত ২ দিনে বিয়ের গয়না বিক্রির হার স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় গয়না সংস্থাগুলির প্রতিটি দোকানে দিনে গড় বিক্রি ২৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। মাঝারি মাপের দোকানগুলিতেও দৈনিক বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ টাকার সোনা।
কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?
জোস অলুক্কাসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভার্গিস অলুক্কাসের কথায়,'শুধু সামনের মরসুম নয়, অনেকে নভেম্বর-ডিসেম্বরের বিয়ের গয়নাও এখনই কিনে ফেলছেন। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের মনে ব্যাপক ভয় কাজ করছে।
দেশের অন্যতম বড় বুলিয়ন হাব মুম্বইয়ের বাজারেও গত দু’দিনে বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অনুমান। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সময় চেয়েছে অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল।
সোনা ও রুপোর দামবৃদ্ধি
ইতিমধ্যেই সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপর মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) তো বটেই খুচরো বাজারেও বেড়েছে সোনার ও রুপোর দর।