আজব সংকট! সোনার দাম বাড়তেই Gold Loan নেওয়ার হিড়িক, কারণটা কী

চলতি মাসের মে মাস পর্যন্ত সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১০৫ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি আরবিআইয়ের পরিসংখ্যানে।

Advertisement
আজব সংকট! সোনার দাম বাড়তেই Gold Loan নেওয়ার হিড়িক, কারণটা কীগোল্ড লোনের হিড়িক কেন
হাইলাইটস
  • ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গড় গোল্ড লোনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১.৯৬ লক্ষ টাকা।
  • আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

ভারতে সোনা আর শুধু মাত্র নিছক বিনিয়োগ বা গয়নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। টাকা দরকার হলে খুব কাজের এই বহুমূল্যের ধাতু । আর সেই কারণেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও দেশে গোল্ড লোন বা সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নিচ্ছেন ভারতীয়রা। 

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১০৫ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাঙ্কগুলির দেওয়া মোট বকেয়া গোল্ড লোনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.১ লক্ষ কোটি টাকা।

সোনা মহার্ঘ হতেই গোল্ড লোন

গোল্ড লোনের এই বিপুল বৃদ্ধির নেপথ্যে প্রধান কারণ, সোনার দামের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে সোনার দাম অনেতটা বেড়েছে। ফলে একই পরিমাণ সোনা বন্ধক রেখে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের মত, গোল্ড লোনের এই মডেল ঋণদাতা ও গ্রাহক, দু'জনের জন্যই অত্যন্ত লাভজনক। চড়া দামের সৌজন্যে গোল্ড লোনের চাহিদা বাড়ছে। আগামী দিনেও এই বৃদ্ধির গতি থাকবে। 

দক্ষিণ থেকে গোটা দেশে

আগে সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা মূলত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য হঠাৎ টাকার প্রয়োজন মেটাতে এটা সহজ ও দ্রুত সমাধান। এর ফলে চড়া সুদে মহাজন বা অন্য জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণও কমেছে।

৩ বছরে দ্বিগুণ গড় ঋণের পরিমাণ

শুধু মোট ঋণের পরিমাণই নয়, মাথাপিছু বা গড়ে নেওয়া ঋণের অঙ্কও দ্রুত হারে বেড়েছে। আরবিআই-এর তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গড় গোল্ড লোনের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১.৯৬ লক্ষ টাকা, যা তার আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। তিন বছর আগে, অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই গড় ঋণের অঙ্ক ছিল মাত্র ৯৮,০০০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরেই গড় ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ!

Advertisement

সোনার দামের চেয়েও দ্রুত বৃদ্ধি ঋণের

২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে গোল্ড প্রাইস ইনডেক্স প্রায় ১৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গোল্ড লোনের পরিমাণ বেড়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি। এতেই স্পষ্ট, কেবল সোনার দাম বাড়ার জন্যই নয়, বরং সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। ঘটনা হল, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও ব্যবসার দৈনন্দিন খরচ ও মূলধনের চাহিদা মেটাতে সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নিচ্ছেন।

কেন সতর্কবার্তা দিল আরবিআই?

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের 'ফাইন্যান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্টে' গোল্ড লোনের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন? আসলে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের জন্য হলুদ ধাতুর দামে কম গেলে বন্ধক রাখা সোনার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। তখন লোন দিয়ে বিপাকে পড়বে ব্যাঙ্কগুলি। বাড়বে ঋণখেলাপির সম্ভাবনাও। তাই গোল্ড লোনের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখতে বলছে আরবিআই।

POST A COMMENT
Advertisement