তিন মাসে 50 টন পুরনো সোনার গয়না বিক্রি ভারতে, Gold Price কি আরও কমবে?

সোনার স্বর্ণযুগের কি অবসান ঘটল? প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজারের কাছাকাছি। অথচ একটা সময় পৌঁছে গিয়েছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ঘরে।

Advertisement
তিন মাসে 50 টন পুরনো সোনার গয়না বিক্রি  ভারতে, Gold Price কি আরও কমবে?ভারতে পুরনো গয়না বেচার হিড়িক
হাইলাইটস
  • ভারতীয়দের সোনা বিক্রির ধুম।
  • এপ্রিল থেকে জুনে ৫০ টন সোনা বিক্রি।

হঠাৎ করেই দেশজুড়ে সোনা বিক্রির ধুম। এখন নতুন সোনা কেনার চেয়ে পুরনো সোনা বিক্রি করতে বেশি আগ্রহ সাধারণ মানুষের। সোনা কি তবে অচিরেই আরও সস্তা হতে চলেছে? বাজার পতনের আশঙ্কায় সাধারণ লগ্নিকারীরা? স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে একাধিক যুদ্ধের আবহে চরম ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সেখানে লগ্নিকারীদের তো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়ার কথা ছিল। তা হলে উলটপুরাণ কেন? 

বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ৪০ হাজারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই দাম প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার রেকর্ড ছুঁয়েছিল। এখন বাজার বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই পূর্বাভাস, এই দাম হয়তো ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। তাহলে কি সোনার সেই আকাশছোঁয়া স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল?

সোনা বিক্রির ধুম

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভারতীয়রা প্রায় ৫০ টন পুরনো সোনা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন, যা গত বছরের ঠিক এই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, এবার মানুষ পুরনো গয়না বদলে নতুন গয়না গড়াতে যাচ্ছেন না, বরং সোনা বিক্রি করে সরাসরি নগদ টাকা ঘরে তুলছেন।

কেন এই সোনা বিক্রির হিড়িক?

ভারতীয় পরিবারগুলি মূলত সোনার এই চড়া দামের সুযোগ নিয়ে মোটা অঙ্কের লাভ ঘরে তুলছে।  আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপে দাম যদি আরও পড়ে গেলে লোকসান হবে।

কেন দাম কমার আশঙ্কা?

এর নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ। লগ্নিকারীদের অনুমান, শক্তিশালী ডলারের জেরে ফেডারেল রিজার্ভ এই বছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে। মার্কিন মুলুকে সুদের হার বাড়লে স্বভাবতই বন্ড ও ফিক্সড রিটার্ন স্কিমগুলিতে বিনিয়োগ বাড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার সূচক লাফিয়ে ১০১.৩৫-এ পৌঁছানোয় অন্যান্য দেশের মুদ্রার নিরিখে সোনা কেনা আগের চেয়ে মহার্ঘ হয়েছে।

Advertisement

ক্র্যাশ বনাম কারেকশন, ফারাক কোথায়?

বিশেষজ্ঞরা এটাকে ক্র্যাশ বলতে নারাজ। তাঁদের মতে, এটা স্বাভাবিক কারেকশন। যে কোনও জিনিসের বাজার খুব দ্রুত ওপরে উঠলে তা আবার কিছুটা নেমে থিতু হয়। একেই কারেকশন বলে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই সাময়িক পতনকে ক্র্যাশ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে সোনা বিক্রি করছেন।

ঘরে রাখা সোনা কোথায় যাচ্ছে?

পুরনো সোনা সরাসরি চলে যাচ্ছে গোল্ড রিসাইক্লিং বা সোনা পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ায়। রিফাইনারিতে গলিয়ে সেই পুরনো সোনা ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হচ্ছে। তা আবার নতুন গয়না বা কয়েন হয়ে বাজারে ফিরছে। এই রিসাইক্লিং ভারতের অর্থনীতির জন্যও একদিক থেকে ভালো। ২০১৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭২.৪ বিলিয়ন ডলারের সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করেছিল। ঘরের সোনা বাজারে ফিরে এলে বিদেশ থেকে সোনা আমদানির নির্ভরতা কিছুটা কমবে। গত বছর রিসাইকেল্ড সোনার জোগান ছিল ১২৫ থেকে ১৫০ টন। এবার তা বেড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টন হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

আপনার এখন কী করা উচিত?

হুজুগে নিজের ঘরের সোনা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়। সোনা বিক্রির আগে নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন এবং পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ, ভারতে সোনার সম্পর্ক কেবল তার বাজারদর বা গয়নার নকশার ওপর নির্ভর করে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের ঐতিহ্য। 

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement