সোনার দামের রেকর্ড হারে পতন - ছবি: PTIসোনার দাম ঠিক যে হারে বাড়ছিল, তার চেয়েও দ্রুত হারে কমছে। চলতি বছরের শুরুতে MCX-এ ১০ গ্রাম সোনার দাম উঠেছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৯১ টাকা। সেই জায়গা থেকে একেবারে ৫০ হাজার ৬০০ টাকা কমে গিয়ে সোনা এখন ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৪১৩ টাকায় পৌঁছেছে। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথমবার একমাসে সবচেয়ে বেশি পতন হল সোনার দামে।
কেন সোনার দামে এত দ্রুত পতন হচ্ছে?
বর্তমানে সোনার বাজার দর বা স্পট গোল্ডের দাম আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার ১ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। গোটা জুনের নিরিখে প্রায় ১৩ শতাংশের কাছাকাছি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, এই নিয়ে টানা ৪ মাস এই প্রবণতা চলছে। অর্থাত্ যাঁদের সোনার লগ্নি করা আছে, তাদের টানা ৪ মাস ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আবার ত্রৈমাসিকের নিরিখে দেখতে গেলে, ২০১৩ সালের পর থেকে তিনমাসে এত বড় পতন দেখেনি সোনার বাজার। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কার জেরে সোনার দামে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ২০১৩ সালের পর এই প্রথম কোনও ত্রৈমাসিকে সোনার দামে সবচেয়ে বড় পতনের পথে এগোচ্ছে সোনা।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ম্যারেক্স জানাচ্ছে, বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধি বেশি, সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। মার্কিন ডলারও শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এই তিনটি কারণই সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে সাধারণত যে কারণগুলি সোনার দাম বাড়ায়, সেগুলির প্রভাব এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
Augmont-এর রিসার্চ হেড রেনিশা চাইনানি জানাচ্ছেন, টানা ৪ সপ্তাহ ধরে সোনার দাম পড়ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পতন হয়েছে। তিনি বলেন, 'মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়া সুদের নীতি, ব্যাপক জিনিসের দাম এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে সোনার দামের উপর লাগাতার চাপ তৈরি হচ্ছে।' তাঁর মতে, সম্প্রতি আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের কারণে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছিল। কিন্তু সেই প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আবারও মূল্যবৃদ্ধি এবং সুদের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা সামনে চলে এসেছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে চলা মার্কিন নন-ফার্ম পেরোল (কর্মসংস্থান) রিপোর্ট এবং ISM ম্যানুফ্যাকচারিং PMI-এর উপর। এই দুটি রিপোর্টের ফলই ঠিক করে দিতে পারে, আগামী দিনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এখন কি সোনা কেনার ঠিক সময়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা অনেকটাই নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ডেটার উপরে। যদি শ্রমের বাজারের ডেটা দুর্বল হয় বা মূল্যবৃদ্ধির হার কমে, তাহলে সোনার দাম খানিকটা চাঙ্গা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX-এ সোনার দামের জন্য ৩,৯৫০ থেকে ৪,০০০ ডলারের স্তরটি এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। যদি দাম এই স্তরের নীচে নেমে যায়, তাহলে আরও বড় পতন হতে পারে এবং সোনার দাম ৩,৬০০ ডলার পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।