সোনা ও রুপোর দামগত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম। মাত্র এক ত্রৈমাসিকেই সোনার দামে নজিরবিহীন পতন আন্তর্জাতিক বাজারে। বুধবার, ২৪ জুন বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ৪,০০০ ডলারের গণ্ডি থেকে নেমে এক ধাক্কায় ৩,৮৯৯ ডলার প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে। ভারতের বাজারেও বুধবারের তুলনায় সস্তা হয়েছে সোনা ও রুপো। প্রায় ২ হাজার টাকা সস্তা হয়েছে হলুদ ধাতু। আর ৫ হাজারের কাছাকাছি পড়েছে রুপোর দামও।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫,৪১৭ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। যা সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র ৫ মাসেই প্রায় ২৪% সস্তা হয়েছে হলুদ ধাতু। পিছিয়ে নেই রুপোও। রেকর্ড উচ্চতা থেকে রুপোর দাম প্রায় ৪৭% পড়ে গিয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দর আউন্স প্রতি ১১৭ ডলারের রেকর্ড স্তরে পৌঁছালেও ২৪ জুনের মধ্যে তা কমে ৫৭ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ ত্রৈমাসিক (টানা ১৫ মাস) ধরে সোনা-রুপোর দাম ছিল ঊর্ধ্বগতি। তা থমকাল। সোনা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কমছে। গত ৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সস্তা হতে চলেছে রুপোর দরও। চলতি জুন ত্রৈমাসিকেই সোনার দাম প্রায় ১২ শতাংশ পড়েছে। যা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর এক ত্রৈমাসিকে সর্বাধিক পতন। অন্যদিকে, রুপোর দর কমেছে প্রায় ১৭.৬ শতাংশ। ২০২২ সালের জুনের পর রুপোর দামেও এটাই সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
অথচ বিগত কয়েক মাস ধরে এই দুই ধাতুর দাম আকাশ ছুঁয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে সোনার দাম ১০ শতাংশ বেড়েছিল। তার আগে ২০২৫ সালে সোনার দর এক লাফে বাড়ে ৬৫ শতাংশেরও বেশি। এবং ২০২৪ সালে বাড়ে ২৮ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে রুপোর দাম ২৮ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২৫ সালে রুপো প্রায় ১৪৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ২২ শতাংশ মহার্ঘ হয়েছিল।
দেশের বাজারেও সস্তা সোনা
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিফলন ঘটেছে ভারতের বাজারেও। বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন দেশের বৃহত্তম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ ‘এমসিএক্স’-এ লেনদেনের শুরুতে সোনার দাম সামান্য ৩২ টাকা কমে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২২৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আবার বাজারের সোনার দামও কমেছে। বুধবার ২২ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫০ টাকা। সেই দাম কমে ১ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এক দিনে সস্তা ২ হাজার ৩৫০ টাকা। কমেছে রুপোর দামও। বুধবার ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকায় বিকোচ্ছিল ১ কেজি রুপো। ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার সেটাই কমে হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫০ টাকা।
কেন এই আকস্মিক পতন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাজারে এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে প্রধানত তিনটি কারণ। প্রথমত, ভারতীয় টাকার তুলনায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি এবং তৃতীয়ত, আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভের আপাতত সুদের হার না কমানোর ইঙ্গিত। এই ৩ কারণেই সোনা ও রুপোর বাজার ক্রমাগত নিম্নমুখী।