হোম লোনে ইএমআই ক্যালকুলেশনরেপো রেট বাড়াল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্র জানান, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হল। ৫.২৫ শতাংশ থেকে তা বেড়ে হল ৫.৫০ শতাংশ। এর ফলে বাড়তে পারে হোম লোন, গাড়ির ঋণ এবং পার্সোনাল লোনের ইএমআই। এখন তো কমবেশি সবারই থাকে হোম লোন। চলুন সহজ হিসেব দেখে নেওয়া যাক।
প্রায় চার বছর পর ফের রেপো রেট বাড়াল আরবিআই। এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেপো রেট বাড়ানো হয়েছিল। উৎসবের মরসুম শুরুর ঠিক আগে ঋণগ্রহীতাদের জন্য ধাক্কা দিয়ে রেপো রেট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়লে হোম লোনের ইএমআই সামান্য বাড়বে। তবে এর ফলে বাড়ি কেনার চাহিদায় বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। ৫০ লক্ষ টাকার ৩০ বছরের হোম লোনে ইএমআই মাসে ৮৫০-৮৭০ টাকা বাড়তে পারে। এর ফলে ঋণের পুরো মেয়াদে মোট সুদের খরচ প্রায় ৩.১ লক্ষ টাকা বেড়ে যেতে পারে।
১৫ লক্ষ টাকার হোম লোন
সুদের হার ৭.৫০ শতাংশ। ২০ বছরের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ। বর্তমানে ইএমআই ১২,০৮৪ টাকা। সুদের হার ৭.৭৫ শতাংশ হলে সেই ইএমআই বেড়ে হবে ১২,৩১৪ টাকা। প্রতি মাসে ২৩০ টাকা বেশি দিতে হবে।
২০ লক্ষ টাকার হোম লোন
ধরা যাক, কেউ ব্যাঙ্ক থেকে ২০ লক্ষ টাকার হোম লোন নিয়েছেন। বর্তমানে সেই ঋণের সুদের হার ৭.৫০ শতাংশ।ঋণের মেয়াদ ২০ বছর। সে ক্ষেত্রে মাসিক ইএমআই ১৬,১১২ টাকা। ০.২৫ শতাংশ সুদের হার বাড়িয়েছে আরবিআই। সেই হিসেবে এবার সুদের হার হবে ৭.৭৫ শতাংশ। হিসাব অনুযায়ী, ২০ লক্ষ টাকার ওই ঋণের মাসিক ইএমআই বেড়ে হবে ১৬,৪১৯ টাকা। প্রতি মাসে দিতে হবে ৩০৭ টাকা বেশি।
৩০ লক্ষ টাকার হোম লোন
৭.৫০ শতাংশ সুদের হারে ২০ বছরের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা হোম লোন নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে বর্তমানে মাসিক ইএমআই ২৪,১৬৮ টাকা। এবার সুদের হার ৭.৭৫ শতাংশ হলে মাসিক ইএমআই বেড়ে দাঁড়াবে ২৪,৬২৮ টাকা। প্রতি মাসে ৪৬০ টাকা বেশি দিতে হবে।
এবার ইএমআই হিসেবের সহজ সূত্রটা জেনে নিন
P × R × (1+R)^N / [(1+R)^N-1]
P = ঋণের পরিমাণ
N = ঋণের মেয়াদ (মাসে)
R = মাসিক সুদের হার
আপনার ঋণের ক্ষেত্রে R অর্থাৎ মাসিক সুদের হার হিসাব করা হয় বার্ষিক সুদের হারকে ১২ এবং ১০০ দিয়ে ভাগ করে।
বেসিক হোম লোনের সিইও অতুল মঙ্গার পরামর্শ, ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে ইএমআই বাড়ানো ভাল। পাশাপাশি প্রতি বছর একটি অতিরিক্ত ইএমআই প্রি-পেমেন্ট করলে অতিরিক্ত সুদের বোঝা এড়ানো সম্ভব।