8th Pay Commission Pay Hike: অষ্টম বেতন কমিশনে মাইনে তো বাড়ছে, কিন্তু এরিয়ার কত পাবেন? জেনে নিন

এখন অষ্টম বেতন কমিশন কবে কার্যকর করা হবে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা কত মাসের বকেয়া বেতন পেতে পারেন, কীসের ভিত্তিতে এই বকেয়া গণনা করা হবে, ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর আলোচনা চলছে।

Advertisement
অষ্টম বেতন কমিশনে মাইনে তো বাড়ছে, কিন্তু এরিয়ার কত পাবেন? জেনে নিন কর্মচারীদের জন্য জ্যাকপট হয়ে উঠছে এরিয়ার

অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে। তবে, এই বিলম্ব সরকারি কর্মচারীদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে লাভজনক হতে পারে। ইন্ডিয়া টুডে-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন স্টেকহোল্ডারদের (কর্মচারী গোষ্ঠী, ইউনিয়ন এবং পেনশনভোগী) তাদের পরামর্শ ও দাবি জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও বাড়িয়েছে।

কমিশন তার সর্বশেষ সার্কুলারে বলেছে, 'অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই শেষবারের মতো তারিখ বাড়ানো হলো। এরপর আর কোনও মেয়াদ বাড়ানো হবে না।' পরামর্শ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রাথমিকভাবে ৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে শুরু হয়েছিল এবং এর শেষ তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল। পরে এটি বাড়িয়ে ৩১ মে করা হয়েছিল। এখন অষ্টম বেতন কমিশন কবে কার্যকর করা হবে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা কত মাসের বকেয়া বেতন পেতে পারেন, কীসের ভিত্তিতে এই বকেয়া গণনা করা হবে, ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর আলোচনা চলছে।

অষ্টম বেতন কমিশন কবে কার্যকর করা হবে?
২০২৫ সালের নভেম্বরে অষ্টম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল। কমিশনকে তার সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং, অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ পেশ করা হতে পারে। প্রতি ১০ বছর পর পর একটি নতুন কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠিত হয়। সেই অনুযায়ী, সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়া উচিত।

কর্মচারীরা কেন বকেয়া বেতন আশা করছেন?
যদিও অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, বর্তমানে তার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে পরামর্শ ও দাবি আহ্বান করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার কমিশনকে এই সময়সীমার মধ্যে রিপোর্টট  জমা দেওয়ার জন্য দেড় বছর সময় দিয়েছে। মিন্ট-এর একটি রিপোর্টে  বলা হয়েছে , সরকার তার সুপারিশগুলো অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এমনটা হলে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা পুরো ১৫ মাসের বকেয়া বেতন এককালীন পেতে পারেন।

Advertisement

এরিয়ার (Arear) কী?
বেতনের বকেয়া অংশকে এরিয়ার বলা হয়। এই টাকা আপনার আগেই  পেয়ে যাওয়ার কথা। ধরুন, আপনার কোম্পানি এপ্রিল মাসে অ্যাপ্রাইজাল শুরু করেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে জুলাই-অগাস্ট পর্যন্ত সময় লেগে গেল। এই পরিস্থিতিতে, কোম্পানি তার কর্মচারীদের এপ্রিল, মে, জুন-জুলাই এবং অগাস্ট মাসের বর্ধিত বেতন একবারে পরিশোধ করবে। এই বকেয়া অর্থকেই এরিয়ার বলা হয়।

অষ্টম বেতন কমিশনে কত বকেয়া পাওয়া যেতে পারে?
বলা হচ্ছে যে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৫ লক্ষ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বকেয়া পেতে পারেন। তবে, এই দাবিগুলির বৈধতা কমিশনের সুপারিশে নির্ধারিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করবে। সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানাচ্ছে। সরকার যদি সংগঠনগুলোর নগুলোর দাবি মেনে নিয়ে ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করে, তাহলে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এ প্রসঙ্গে মিন্ট একটি উদাহরণের মাধ্যমে এই সম্পূর্ণ হিসেবটি ব্যাখ্যা করেছে।
ন্যূনতম মূল বেতন (লেভেল-১ কর্মচারী)
- বর্তমান বেসিক বেতন: ১৮,০০০  টাকা (সপ্তম বেতন কমিশনে নির্ধারিত ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে)।
- ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে নতুন মূল বেতন: ৬৬,২৪০ টাকা।
- মাসিক বেতন বৃদ্ধি:  ৪৮,২৪০ টাকা।
- ১০ মাসের বকেয়া: ৪,৮২,৪০০ টাকা।

যাঁদের বেতন সবচেয়ে বেশি (ক্যাবিনেট সচিব পর্যায়ে)
- বর্তমান বেসিক বেতন (সপ্তম বেতন কমিশন): ২.৫ লক্ষ টাকা
- ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সহ নতুন বেসিক বেতন: ৯,২০,০০০ টাকা।
- বেতন বৃদ্ধি: ৬,৭০,০০০ টাকা।
- ১০  মাসের বকেয়া: ১৩, লাখ ৪০ হাজার।

(এই হিসাবটি ইউনিয়নগুলোর ৩.৬৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তবে, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরটি ২.২৮ থেকে ২.৮৬-এর মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর, বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশসমূহ সরকারের বাস্তবায়ন এবং সম্মত হওয়া ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।)

POST A COMMENT
Advertisement