EPF-এ কত টাকা রাখলে ভবিষ্যতে সুবিধা হবে ?২০২৬ সালের কর্মচারী ভবিষ্যনিধি বা EPF স্কিমে যোগ্য কর্মীরা এখন তিনটি বিকল্প বেছে নিতে পারেন। প্রযোজ্য বেতনের ১২%, ৯% জমা দিতে পারেন। বা প্রতি মাসে ১৮০০ টাকা দিতে পারেন। এর ফলে কিছু কর্মীর মাসিক হাতে পাওয়া বেতন বাড়তে পারে। তবে আর্থিক পরিকল্পনাকারীদের মতে, শুধু বেশি বেতন হাতে পাওয়ার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ কম EPF জমা দিলে দীর্ঘমেয়াদে অবসরের সঞ্চয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
AUM Wealth Pvt. Ltd.-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO তথা সার্টিফায়েড ফিনান্সিয়াল প্ল্যানার অমিত সুরি জানান, EPF-এ কম টাকা বেছে নেওয়ার আগে কর্মীদের বয়স, অবসর পর্যন্ত বাকি সময়, আর্থিক শৃঙ্খলা, নগদ অর্থের প্রয়োজন, করের পরিস্থিতি এবং ইতিমধ্যেই গড়ে ওঠা অবসর তহবিলের কথা বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, 'শুধু হাতে বেশি বেতন পাওয়ার জন্য EPF-এর অবদান কমানো উচিত নয়। আজ সঞ্চয় সামান্য কমালেও আগামী ২৫-৩০ বছরে চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে অবসরের তহবিলে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।'
কার জন্য কোন EPF বিকল্প?
অমিত সুরির মতে, ১২% EPF অবদান এখনও অধিকাংশ কর্মীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এটি নিরাপদ ও নিয়মিত অবসর সঞ্চয়ের ব্যবস্থা। যাঁরা নিজেরা নিয়মিত বিনিয়োগ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
৯% জমা করা তাঁদের জন্য উপযুক্ত হতে পারে, যাঁদের বর্তমানে বাড়ির EMI, সন্তানের পড়াশোনা বা জরুরি তহবিল তৈরির মতো অতিরিক্ত আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে। এতে কিছুটা বেশি নগদ অর্থ হাতে থাকবে, আবার অবসরকালীন সঞ্চয়ও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
অন্যদিকে মাসে ১,৮০০ টাকা তাঁদের জন্য সুবিধাজনক যাঁরা আর্থিকভাবে সচেতন এবং অতিরিক্ত টাকা নিয়মিত ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড বা ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)**-এ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী।
চক্রবৃদ্ধি সুদের প্রভাব
অমিত সুরি একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। ধরা যাক, কোনও কর্মীর EPF-যোগ্য মাসিক বেতন ৫০,০০০ টাকা। এবং EPF-এ বার্ষিক ৮%** হারে সুদ মিলছে। তাহলে ১২% অবদান = মাসে ৬,০০০ টাকা আবার
৯% অবদান = মাসে ৪,৫০০ টাকা।
অর্থাৎ প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা কম জমা হবে। এই ১,৫০০ যদি ৩০ বছর EPF-এ জমা থাকত, তাহলে তা প্রায় ২২-২৫ লক্ষ টাকায় পরিণত হতে পারত।
আর যদি কেউ ১,৮০০ টাকা রাখেন তাহলে তাহলে প্রতি মাসে প্রায় ৪,২০০ টাকা কম জমা হবে। ৩০ বছরে এর ফলে অবসরকালীন তহবিলে ৬০-৭০ লক্ষ বা তারও বেশি ঘাটতি হতে পারে। বেতন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের EPF সুদের হার অনুযায়ী এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
হাতে পাওয়া বেতন সব সময় বাড়বে না
অমিত সুরি সতর্ক করে বলেন, কম EPF জমা দিলেই যে হাতে পাওয়া বেতন বাড়বে, এমন নয়। যেসব সংস্থায় Fixed Cost-to-Company বা CTC কাঠামো রয়েছে, সেখানে কর্মীর EPF অবদান কমলে নেট বেতন কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তা নির্ভর করবে সংস্থার বেতন কাঠামো, নিয়োগকর্তার EPF অবদান এবং ক্ষতিপূরণ নীতির উপর। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে HR বা Payroll বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
শৃঙ্খলাপূর্ণ বিনিয়োগই আসল
অমিত সুরির মতে, যাঁরা তরুণ, পর্যাপ্ত জরুরি তহবিল রয়েছে এবং নিয়মিত SIP বা NPS-এ বিনিয়োগ করেন, তাঁরা কম EPF অবদান রেখে বাড়তি অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্ন পেতে পারেন। তবে অধিকাংশ কর্মীর জন্য ১২% EPF অবদানই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। কারণ অনেকেই EPF-এ কম টাকা জমা দিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ হাতে পান, তা ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ না করে দৈনন্দিন খরচেই ব্যয় করে ফেলেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের অবসরকালীন সঞ্চয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।