কলকাতায় সবচেয়ে ধনী শিল্পপতি কে।ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের সংখ্যায় দেশে ফের শীর্ষস্থান দখল করল মুম্বই। ২০২৬ বার্কলেস প্রাইভেট ক্লায়েন্টস হুরুন ইন্ডিয়ার মোস্ট ভ্যালুয়েবল ফ্যামিলি বিজনেসেস তালিকায় দেশের বাণিজ্যনগরীতে রয়েছে মোট ১১৯টি কোম্পানি। গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি।
মুম্বই শহরের মোট ১৮৫টি সংস্থার মধ্যে ১১৯টি পরিবার পরিচালিত ব্যবসা। এর মধ্যে ৯৫টি পরিবার পরিচালিত ব্যবসা। যা গত বছরের তুলনায় ৪টি বেশি। বরাবরের মতো এই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অম্বানি পরিবারের রিল্যায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এর পাশাপাশি, সান ফার্মা-সহ প্রথম প্রজন্মের গড়ে তোলা ২৪টি সংস্থাও মুম্বইয়ের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকা বা NCR। ৫৮টি সংস্থা ঠাঁই পেয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৪টি কম। প্রযুক্তি সংস্থা এইচসিএল টেকনোলজিস ও নাডার পরিবার এই অঞ্চলের শীর্ষে। পাশাপাশি এনসিআরে ১৮টি প্রথম প্রজন্মের ব্যবসাও রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ভারতী এয়ারটেল। ফলে এনসিআর থেকে মোট সংস্থার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৭৬।
তালিকায় ২৬টি সংস্থা নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে তিলোত্তমা কলকাতা। গত বছরের চেয়ে এবার কলকাতা থেকে একটি সংস্থা বেশি ঠাঁই পেয়েছে। শহরের ব্যবসাজগতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রী সিমেন্ট। এই সংস্থার মালিক বাঙ্গুর পরিবার। বর্তমানে সংস্থার চেয়ারম্যান এমিরেটাস বেণুগোপাল বাঙ্গুর। আর চেয়ারম্যান তাঁর ছেলে হরিমোহন। নাতি প্রশান্ত বাঙ্গুর ভাইস চেয়ারম্যান।
২০টি সংস্থা নিয়ে পুণে রয়েছে পরবর্তী স্থানে। যেখানে বজাজ গোষ্ঠী প্রথম স্থানে। চেন্নাইয়ে ১৭টি এবং বেঙ্গালুরুতে ১২টি সংস্থা এই তালিকায় নাম তুলেছে। চেন্নাইয়ের তালিকায় শীর্ষে চোলমণ্ডলম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইনান্স কোম্পানি। বেঙ্গালুরুতে দু'টি নতুন সংস্থা যুক্ত হয়েছে। বরাবরের মতোই সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে উইপ্রো।
তালিকায় আমেদাবাদ ও হায়দরাবাদ শহরের ৯টি করে সংস্থা রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় দুটি শহর থেকেই একটি করে সংস্থা কমেছে। আমেদাবাদে টোরেন্ট গ্রুপ এবং হায়দরাবাদে ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ সবচেয়ে বড় সংস্থা। প্রথম প্রজন্মের ব্যবসার ক্ষেত্রে আমেদাবাদের উপস্থিতি বেশ নজরকাড়া। সেখানে আদানি এন্টারপ্রাইজ়ের নেতৃত্বে ৯টি প্রথম প্রজন্মের সংস্থা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
তালিকায় শীর্ষে রিলায়্যান্স
রিল্যায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক অম্বানি পরিবারের মোট সম্পত্তি ২৫,৮২,৮০০ কোটি টাকা। পরিবার পরিচালিত ব্যবসার তালিকায় শীর্ষস্থানে তারা। এনার্জি, আর্থিক পরিষেবা, মিডিয়া ও বিনোদন, টেক্সটাইল ও পোশাক, টেলিকমিউনিকেশন, কনজিউমার গুডস, পরিবহণ ও লজিস্টিকস, রিটেল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অম্বানি পরিবারের ব্যবসা।
৮,১৩,৭০০ কোটি টাকার নিট সম্পত্তি নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিড়লা পরিবার। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ব্যবসা ধাতু, নির্মাণ সামগ্রী, রিয়েল এস্টেট, টেক্সটাইল, আর্থিক পরিষেবা, রিটেল, টেলিকমিউনিকেশন, গয়না এবং মিডিয়া। তালিকায় যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থান দখল করেছে জিন্দাল পরিবার (জেএসডব্লিউ স্টিল), বজাজ পরিবার (বাজাজ গ্রুপ) এবং মহিন্দ্রা পরিবার (মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা)। এছাড়া অনিল আগরওয়াল পরিবার (বেদান্ত), মুরুগাপ্পা পরিবার (চোলমণ্ডলম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স) এবং নাডার পরিবার (এইচসিএল টেকনোলজিস) যথাক্রমে ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম স্থানে রয়েছে। প্রেমজি পরিবার (উইপ্রো) নবম স্থানে। আর দানি পরিবার, চোকসি পরিবার ও ভাকিল পরিবার (এশিয়ান পেইন্টস) যৌথভাবে দশমস্থানে।