ITR Filing : ইনকাম কম হলেও ITR ফাইল বাধ্যতামূলক, না হলে গুনতে হবে হাজার হাজার টাকা জরিমানা

যদি বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও ITR দাখিল না করা হয়, সেক্ষেত্রে Section 234F অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫,০০০ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মোট আয় ৫ লাখ পর্যন্ত হলে জরিমানা ১,০০০-এ সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

Advertisement
ইনকাম কম হলেও ITR ফাইল বাধ্যতামূলক, না হলে গুনতে হবে হাজার হাজার টাকা জরিমানা আয় কম হলেও কাদের দিতেই হবে ITR?
হাইলাইটস
  • আয়কর আইন অনুযায়ী, শুধু করযোগ্য আয় নয়, নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেন ও রিপোর্টিংয়ের শর্ত পূরণ হলেও ITR দাখিল করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়
  • অর্থাৎ, কম বেতন পেলেও কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিতেই হবে

অনেকে মনে করেন, তাঁদের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকার কম হলে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়। আয়কর আইন অনুযায়ী, শুধু করযোগ্য আয় নয়, নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেন ও রিপোর্টিংয়ের শর্ত পূরণ হলেও ITR দাখিল করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। অর্থাৎ, কম বেতন পেলেও কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিতেই হবে।

কোন কোন ক্ষেত্রে ITR দাখিল বাধ্যতামূলক?

১) ব্যাঙ্কে অনেক টাকা জমা : এক বা একাধিক কারেন্ট অ্যাকাউন্টে আর্থিক বছরে মোট ১ কোটির বেশি জমা হলে ITR দাখিল বাধ্যতামূলক। এক বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখের বেশি জমা হলেও ITR জমা দিতে হবে। যদি আয় করমুক্ত হয় তাহলেও।

২) বিদেশ ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ বিল : বছরে নিজের বা অন্য কারও বিদেশ ভ্রমণে ২ লাখের বেশি খরচ করলে ITR দাখিল বাধ্যতামূলক। বছরে বিদ্যুৎ বিল ১ লাখের বেশি হলে ITR জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার আয় ৪ লাখ টাকার কম হলেও। 

৩) ব্যবসা, পেশাগত আয় ও TDS/TCS : ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভার বা মোট প্রাপ্তি ৬০ লাখের বেশি হলে ITR বাধ্যতামূলক। চিকিৎসক, স্থপতি, পরামর্শদাতা, ফ্রিল্যান্সারসহ অন্যান্য পেশাজীবীর মোট পেশাগত আয় ১০ লাখের বেশি হলেও রিটার্ন জমা দিতে হবে। এছাড়াও আর্থিক বছরে মোট TDS বা TCS ২৫,০০০ বা তার বেশি হলে ITR দাখিল বাধ্যতামূলক।

৪) সিনিয়র সিটিজেনদের ক্ষেত্রে : সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০,০০০ টাকা।

৫) বিদেশে সম্পদ থাকলে : যদি কোনও ভারতীয় বাসিন্দার বিদেশে সম্পদ থাকে, বিদেশি সম্পদের সুবিধাভোগী হন, অথবা বিদেশের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সই করার অধিকার থাকে, তাহলে কোনও ন্যূনতম আর্থিক সীমা ছাড়াই ITR দাখিল বাধ্যতামূলক। এমনকী বিদেশি মূল কোম্পানির ESOP-এর মাধ্যমে শেয়ার থাকলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

Advertisement

৬) Section 87A-এর রিবেট পেলেও ITR এড়ানো যাবে না : অনেক চাকরিজীবী Section 87A-এর রিবেটের ফলে কর শূন্য হওয়ায় মনে করেন ITR জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু Section 87A শুধুমাত্র ট্যাক্সে রিবেট দেয়, ITR দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেয় না। সুতরাং, উপরের যেকোনও শর্ত প্রযোজ্য হলে রিটার্ন জমা দিতেই হবে।

এছাড়া ITR জমা দেওয়া প্রয়োজন হয় ৪ লাখের কম আয় হলে কোন কোন ক্ষেত্রে? 

  • অতিরিক্ত কাটা TDS-এর রিফান্ড পেতে। 
  • আয়ের সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষণ করতে। 
  • ব্যবসায়িক বা মূলধনী ক্ষতি ভবিষ্যতের জন্য বহন করতে।


এবার প্রশ্ন ITR না জমা দিলে কী হতে পারে?

যদি বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও ITR দাখিল না করা হয়, সেক্ষেত্রে Section 234F অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫,০০০ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
মোট আয় ৫ লাখ পর্যন্ত হলে জরিমানা ১,০০০-এ সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
কর বকেয়া থাকলে Section 234A অনুযায়ী সুদও দিতে হতে পারে।

  • এছাড়াও আয়কর রিফান্ড পেতে দেরি হতে পারে,
  • ব্যবসা বা মূলধনী ক্ষতি ভবিষ্যতে সমন্বয়ের সুবিধা হারাতে পারেন,
  • হোম লোন, শিক্ষা ঋণ বা ভিসার আবেদন করার সময় ITR না থাকায় সমস্যায় পড়তে পারেন, কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান ITR-কে আয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।

কম আয় বা শূন্য কর মানেই ITR জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই- এমন ধারণা ভুল। রিটার্ন না জমা দেওয়ার আগে নিজের ব্যাঙ্ক লেনদেন, TDS/TCS, Annual Information Statement (AIS), Form 26AS এবং বিদেশি সম্পদের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন। 

POST A COMMENT
Advertisement