ভারত-ইরান বাসমতী চাল রফতানিআয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে জ্বলছে ইরান। শয়ে শয়ে মৃত্যু। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতের উদ্বেগ বাড়াল বাসমতী চালের ব্যবসা। বিশ্বে ভারতের থেকে সবচেয়ে বেশি বাসমতী চাল কিনত ইরান। ভারতের বাসমতী চাল রফতানিতে ইরান ছিল একনম্বরে। কিন্তু বর্তমানে ইরানে যা পরিস্থিতি, তাতে দেখা যাচ্ছে, বাসমতী চালের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। এই ট্রেন্ড বেশ কিছুকাল ধরেই দেখা যাচ্ছিল। ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হিংসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের চাহিদা আরও পড়ে গিয়েছে। তার উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ইরানের সঙ্গে যে সব দেশ ব্যবসা করবে, ২৫ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়ে দেবেন। আর ইরানে রফতানি কমে যাওয়ায় ভারতে বাসমতী চালের দামও কমতে পারে। ইতিমধ্যেই কমেওছে কিছুটা।
এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আগামী কয়েক মাসে
বহু দশক ধরে ভারতের কৃষিজ পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ইরান। বিশেষ করে বাসমতী চাল। একদা ভারতের স্থায়ী ও স্থিতিশীল বাজার ইরানে এখন অশান্তির কালো ছায়া। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ভারত। কয়েক বছর আগেও ভারতের বাসমতী চাল কেনা দেশগুলির মধ্যে একনম্বরে ছিল ইরান। বর্তমানে তিন নম্বরে চলে গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে আগামী কয়েক মাসে।
বকেয়া আদায় করা যাচ্ছে না
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ইরানে বাসমতী চাল রফতানি করার পরেও বকেয়া আদায় করা যাচ্ছে না। অনেক দেরিতে টাকা মিলছে। একাধিক ভারতীয় চাল রফতানিকারী সংস্থা জানাচ্ছে, তাদের প্রচুর টাকা পাওয়া বকেয়া। সেই সব টাকা আটকে রয়েছে। ইরানে এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বকেয়া কবে মিলবে, তাও নিশ্চিত নয়। ইরানের বন্দরগুলিতে ভারতের কনসাইনমেন্টগুলি পড়ে রয়েছে। যার নির্যাস, ভারতীয় চাল রফতানিকারকদের সংগঠন অ্যাডভাইজারি জারি করেছে, ভারতের ব্যবসায়ীরা ইরানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ডিল করলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে ইরানের
অফিসিয়াল ডেটা বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত ইরানে মোট ৮,৮৯৭ কোটি টাকার কৃষিপণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে শুধু বাসমতী চাল থেকেই এসেছে ৬,৩৭৪ কোটি টাকা। ভারতের মোট বাসমতী রফতানি প্রায় ১২.৭ শতাংশ যায় ইরানে। তবে ভবিষ্যতে এই অংশ আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আমদানিকারকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের টাকাও দিতে পারছে না। বকেয়া বেড়েই চলেছে।
ইরানের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আগে প্রাভাবিত হবে হরিয়ানা ও পঞ্জাব। মজার বিষয় হল, চলতি অর্থবর্ষের শুরুতে ইরানে বাসমতী চাল রফতানি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভারত ইরানে ৫.৯৯ লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতী চাল রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪.৯৫ লক্ষ মেট্রিক টন। তবে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।