India GDP Growth: বিশ্বজুড়ে চাপ, তবু অর্থনীতিতে দুর্দান্ত গতি! অনুমান ছাপিয়ে ৭.৮% GDP, উচ্ছ্বসিত মোদী

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সূচনা। বর্তমান বিশ্বে এই কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই পরিসংখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে চমৎকার বলে বর্ণনা করেছেন।

Advertisement
বিশ্বজুড়ে চাপ, তবু অর্থনীতিতে দুর্দান্ত গতি! অনুমান ছাপিয়ে ৭.৮% GDP, উচ্ছ্বসিত মোদী কঠিন বিশ্ব পরিস্থিতিতেও অর্থনীতিবিদদের অনুমানকে ছাপিয়ে গেল ভারতের GDP, উচ্ছ্বসিত মোদী

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি  প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সূচনা। বর্তমান বিশ্বে এই কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই পরিসংখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে চমৎকার বলে বর্ণনা করেছেন।

এপ্রিল-জুনের এই বৃদ্ধির হার অর্থনীতিবিদদের অনুমানের (প্রায় ৭.১%) চেয়ে বেশি। GDP সর্বশেষ সিরিজ অনুযায়ী, গত বছর একই ত্রৈমাসিকে অর্থনীতি ৬.৯% বৃদ্ধি পেয়েছিল। সুতরাং, এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

এই পরিসংখ্যানগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই সর্বশেষ পরিসংখ্যানগুলো এসেছে। এই চাপগুলো সত্ত্বেও, অভ্যন্তরীণ চাহিদাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে, পাশাপাশি সরকারি মূলধনী ব্যয়, উৎপাদন, নির্মাণ এবং রফতানিও অর্থনীতির বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।

প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এই ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানগুলো তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই বৃদ্ধিতে সামান্য মন্দার আশঙ্কা ছিল। ৫৮ জন অর্থনীতিবিদের ওপর রয়টার্সের এক সার্ভেতে এপ্রিল-জুন মাসের জন্য প্রায় ৭.১% বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এর কারণ ছিল দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ, তেলের উচ্চ মূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ।

দারুণভাবে শুরু হয়েছে
জিডিপি বৃদ্ধির ৭.৮% পরিসংখ্যানটি ইঙ্গিত দেয় যে অর্থনীতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে  শক্তিশালী অবস্থানে প্রবেশ করেছে। ভোগব্যয় শক্তিশালী ছিল, এবং সরকারি ব্যয় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও কার্যকলাপ বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। এই ত্রৈমাসিকে উৎপাদন এবং নির্মাণ খাত অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে। ত্রৈমাসিকের শেষে শক্তিশালী শিল্প কার্যকলাপও সামগ্রিক  বৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে। এই পারফরমেন্স  ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির গুরুত্বকেও তুলে ধরে, যেখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকা সত্বেও এই বৃদ্ধি ঘটেছে। তুলনামূলকভাবে বড় অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজার বৈশ্বিক চাহিদা ও বাণিজ্যের কিছু দুর্বলতা থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন – চমৎকার
প্রধানমন্ত্রী মোদীও এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, '২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮% চিত্তাকর্ষক জিডিপি বৃদ্ধি অসাধারণ সাফল্য। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, তেলের মূল্যের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সত্ত্বেও আমাদের জনগণের সম্মিলিত শক্তিই ভারতকে এই বৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম করেছে। হতাশাবাদীরা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। ভারত আবারও সাফল্যের নতুন শিখরে পৌঁছেছে!' 

Advertisement

 

ভবিষ্যতের ঝুঁকি
তবে, ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিও রয়েছে। ভারতের জন্য তেলের দাম  বড় উদ্বেগের কারণ, কারণ দেশ অপরিশোধিত তেলের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করে। জ্বালানির দামের ক্রমাগত বৃদ্ধি কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ সৃষ্টি করবে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা রফতানি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। নীতিনির্ধারকরা বেসরকারি বিনিয়োগের দিকেও নিবিড়ভাবে নজর রাখবেন, কারণ দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য কর্পোরেট ব্যয়ের বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আপাতত, প্রথম ত্রৈমাসিকের তথ্য ২০২৭ অর্থবর্ষের  শক্তিশালী সূচনা নির্দেশ করে। ৭.৮% বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছে, যদিও নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আগামী কয়েক ত্রৈমাসিকেই বোঝা যাবে যে শক্তিশালী বেসরকারি বিনিয়োগ, ভোগ এবং রফতানির মাধ্যমে এই গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা, নাকি বাহ্যিক চাপগুলো  অর্থনীতির বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে শুরু করবে।

POST A COMMENT
Advertisement