২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই আসবে ভারতের হাত ধরে, দাবি রুশ তেল সংস্থার কর্তার।India oil demand 2035: আগামী ১০ বছরে বিশ্ববাজারের অর্ধেক তেল শুধু ভারতই কিনে নেবে। এমনই দাবি রাশিয়ার বৃহত্তম তেল সংস্থা রসনেফটের প্রধানের। তাঁর দাবি, জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখেন রসনেফটের সিইও ইগর সেচিন। সেখানেই ভারতের জ্বালানি চাহিদা নিয়ে বলেন। তাঁর মতে, দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং ভোগের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক বছরে ভারতের তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
বিশ্ব তেলের বাজারে ভারতের প্রভাব
রসনেফট প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (IEA) অনুমান বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের দৈনিক তেল ব্যবহার প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। বর্তমান স্তরের তুলনায় যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, একই সময়ে বিশ্বজুড়ে মোট তেলের চাহিদা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক ভাবে অনেক কম থাকবে। সেই কারণেই আগামী দশকে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা বৃদ্ধির প্রায় ৫০ শতাংশ একা ভারতের হাত ধরেই আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারত এখনও অন্যতম। সাম্প্রতিক জিডিপি বৃদ্ধির হারও সেই প্রবণতাকেই আরও জোরদার করেছে।
রুশ তেল থেকে লাভবান ভারত
ইগর সেচিন আরও দাবি করেছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ফলে ভারত এবং চিন উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, রুশ তেলের সরবরাহ থেকে দুই দেশের সম্মিলিত আর্থিক লাভের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। পাশাপাশি ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করেছে বলেও মত তাঁর।
রসনেফট প্রধানের দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় রাশিয়াকে সম্পূর্ণ ভাবে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে অ্যালার্ট
তবে আশাবাদের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন রসনেফটের সিইও। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে কোনও রকম বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে পারে।
বিশেষ করে সার এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইগর সেচিনের বক্তব্য, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। যদি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটে, তা হলে খাদ্যপণ্যের দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, ততই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দেশের গুরুত্ব বাড়ছে। আগামী দশকে সেই প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।