Economist Prediction: মাত্র ২৫ বছরেই আমেরিকাকে পিছনে ফেলে দেবে ভারত? 'বিশ্বের ১ নম্বর...', পূর্বাভাস অর্থনীতিবিদের

 বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বদলের এপিসেন্টার এশিয়া। আর সেই পরিবর্তনে ভারতের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স।

Advertisement
মাত্র ২৫ বছরেই আমেরিকাকে পিছনে ফেলে দেবে ভারত? 'বিশ্বের ১ নম্বর...', পূর্বাভাস অর্থনীতিবিদেরএমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স।
হাইলাইটস
  •  বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
  • বদলের এপিসেন্টার এশিয়া।
  • পরিবর্তনে ভারতের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

 বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বদলের এপিসেন্টার এশিয়া। আর সেই পরিবর্তনে ভারতের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স। তাঁর দাবি, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আমেরিকাকেও পিছনে ফেলে বিশ্বের নম্বর ১ অর্থনীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও চিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন। তাঁর মতে, আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের অর্থনীতির ক্ষমতার ভার আরও বেশি করে এশিয়ার দিকে চলে যাবে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং চিন দু’টি বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে।

আগামী ২৫ বছরে বড় বদল?
জেফরি স্যাক্সের মতে, এখন থেকে প্রায় ২৫ বছর পরে বিশ্বের অর্থনীতির ছবিতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সেই সময়ে ভারত এবং চিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে। আমেরিকা চলে যেতে পারে তৃতীয় স্থানে।

তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি ইতিমধ্যেই বেশ শক্তিশালী। আগামী দিনেও এই গতি বজায় থাকতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের অর্থনীতি আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ভারতের এক নম্বর অর্থনীতি হওয়ার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও বিষয়টি দেখার প্রয়োজন রয়েছে। স্যাক্সের বক্তব্য মূলত দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্বাভাস।

ভারত-চিনের সম্পর্কেও বড় সম্ভাবনা
ভারত এবং চিনের মধ্যে রাজনৈতিক ও সীমান্ত সংক্রান্ত একাধিক সমস্যা রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কে অবিশ্বাসও রয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক দিক থেকে সহযোগিতার জায়গা এখনও তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন স্যাক্স।

তাঁর মতে, ভারত যেমন চিনকে প্রয়োজন মনে করতে পারে, তেমনই চিনেরও ভারতের প্রয়োজন রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও গভীর হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের অর্থনীতিতে নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

Advertisement

ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গে চিনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ যুক্ত হলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

এশিয়ার দিকে কেন নজর?
জেফরি স্যাক্সের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র আবার এশিয়ার দিকে ফিরে আসছে। ইতিহাসের দীর্ঘ সময় ধরে এশিয়াই ছিল বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পরে শিল্পবিপ্লবের সময় সেই অবস্থানে পরিবর্তন আসে। এখন ফের এশিয়ার গুরুত্ব বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। চিনের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ভারতের সামনে বড় সুযোগ
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের গুরুত্ব ইতিমধ্যেই বেড়েছে। জনসংখ্যার বড় অংশ কর্মক্ষম বয়সে রয়েছে। দেশের বাজারও বড়। প্রযুক্তি, উৎপাদন, পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর মতো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়লে অর্থনীতির পরিসর আরও বাড়তে পারে।

জেফরি স্যাক্সের মতে, ভারত যদি চিন-সহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যোগাযোগ বাড়াতে পারে, তা হলে এই বৃদ্ধির গতি আরও বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশ্বের অর্থনীতির ক্ষমতার ভার যদি সত্যিই এশিয়ার দিকে আরও সরে যায়, তা হলে সেই পরিবর্তনের অন্যতম অনুঘটক হতে পারে ভারত। তবে বৃহত্তম অর্থনীতি মানেই সবাই ধনী হয়ে যাবেন, এমনটাও নয়। জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের বৈষম্য দূর করাও ভারতের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।  

POST A COMMENT
Advertisement