সোনা আমদানিতে দ্বিতীয় স্থানে ভারতদেশে উৎসবের মরশুম চলছে এবং মানুষ দিওয়ালি-ধনতেরসের (Diwali-Dhanteras 2022) প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সাধারণত এই সময়ে মানুষ সোনা-রুপোর গয়না কিনতে বেশি পছন্দ করে। এবার করোনার প্রাদুর্ভাব কম হওয়ায় গয়নার চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু, আপনি কি জানেন যে গয়না আপনি কিনছেন, সেই গয়নার সোনা (Gold) কোথা থেকে আসে? ভারত একটি ছোট দেশ থেকে তার প্রয়োজনীয়তার অর্ধেক সোনা কেনে।
সোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ভারতে সোনাকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানে লোকজন সোনাকে গয়না হিসাবে পরতে পছন্দ করে, অন্যদিকে এটি বিনিয়োগের জন্য সেরা বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হয়। অনেক সময় দেখা গিয়েছে যে সারা বিশ্বের শেয়ারবাজারে ধস নামলে বা অন্য কোনও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে সোনার চাহিদা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ভারতীয়রা এগিয়ে রয়েছে। এই কারণেই ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক। এটি তার চাহিদার প্রায় অর্ধেক সুইৎজারল্যান্ড (Switzerland) থেকে কেনে।
সুইজারল্যান্ড ছাড়াও ভারত সোনা আমদানি করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), দক্ষিণ আফ্রিকা, গায়ানা এবং পেরুর মতো দেশ থেকে। যদি আমরা ২০২১-২২ আর্থিক বছরের সোনা আমদানির ডেটা দেখি, তাহলে জানতে পারব যে এই সময়ের মধ্যে ভারত শুধুমাত্র সুইৎজারল্যান্ড থেকে তার ৪৫.৮ শতাংশ সোনা আমদানি করেছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে সর্বোচ্চ ১২.৭ শতাংশ সোনা কিনেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা সোনার বেশিরভাগই প্রথমে চেন্নাই ও দিল্লিতে আনা হয়।
সুইস গোল্ডের চাহিদা বেশি:
সুইৎজারল্যান্ড ইউরোপের একটি ছোট দেশ, দীর্ঘকাল ধরে ভারতের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশগুলির শীর্ষে রয়েছে এই দেশ। এর কারণ এই দেশটিতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা পরিশোধন কেন্দ্র। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সোনার চেয়ে সুইস সোনার মান ভাল বলে মনে করা হয়। এ কারণে ক্রেতাদের মধ্যেও সুইস সোনার চাহিদা অনেক।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, জেম জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল (জিজেইপিসি) সম্প্রতি বলেছে যে ২০২১ সালে ভারতের সোনা আমদানি ছিল ১,০৬৭.৭২ টন। ২০২০ সালে এটা ছিল ৪৩০.১১ টন। করোনা মহামারীর কারণে দেশে সোনার চাহিদা খারাপভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।