শেয়ারমার্কেটে হাহাকারভারতীয় শেয়ারমার্কেটে হাহাকার। পরপর ৪ দিন পড়ল ভারতীয় মার্কেট। আর সেই কারণে চিন্তা বাড়ছে সেনসেক্স, নিফটিতে লগ্নিকারীদের। তাঁরা বুঝতে পারছেন না এমনটা ঠিক কেন হচ্ছে।
আসলে বৃহস্পতিবার মার্কেট শুরুর সময় থেকেই পড়তে থাকে। সেনসেক্স ২০০ পয়েন্ট নীচে শুরু করে। তারপর আরও বাড়তে থাকে শেয়ার বিক্রি করার চাপ। দুপুর আড়াইটে নাগাদ সেনসেক্স ট্রেড করছিল ৮৪৩৬০ পয়েন্টে। এই সময় সূচক ৬০০ পয়েন্ট নেমে যায়। নিফটি পড়ে যায় ২০০ পয়েন্ট। যার ফলে ২৬০০০ পয়েন্টে নেমে আসে এই সূচক।
এ দিন সবথেকে বেশি চাপ পড়েছে তেল এবং ধাতু সংস্থাগুলির স্টকের উপর। হিন্দালকোর শেয়ার পড়ে যায় ৩.৭৭ শতাংশ। ওএনজিসি পড়েছে ৩.১২ শতাংশ। এছাড়া জিও ফিনান্সের শেয়ারও ৩ শতাংশ নেমেছে।
আর শেয়ারবাজারের এই পতনের পিছনে একাধিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মূলত ট্রাম্পই এই পতনের পিছনে রয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আসলে ভারত হল রাশিয়ার তেলের বিরাট বড় ক্রেতা। আর এখানেই চিন্তা। কারণ, 'স্যাংশানিং রাশিয়া অ্যাক্ট অব ২০২৫' নামক একটি বিল এনেছে আমেরিকা। এই বিলটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাট বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই বিলই রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াবে। এমনকী ভারতও বেকায়দায় পড়ে যেতে পারে এই আইনের জন্য।
কী হুমকি ট্রাম্পের?
ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানি কিনলে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারে আমেরিকা। আর চিন, ভারত এবং ব্রাজিল এই কারণে সমস্যায় পড়তে পারে।
মাথায় রাখতে হবে, ৫০০ শতাংশ শুল্ক বসালে ভারত যা যা জিনিস আমেরিকায় পাঠায়, সেগুলি মার খাবে। যার ফলে মার খেতে পারে ব্যবসা। যদিও ভারত সরকার এখনও এই বিষয়ে মুখ খোলেনি।
ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের অধিকাংশ মার্কেটই আজ খারাপ ফল করছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং-ও অনেকটাই পড়েছে আজ। এমনকী আমেরিকার মার্কেটও আজ বেশ কিছুটা নেমেছে। অর্থাৎ সারা বিশ্বেই যে পরিস্থিতি খারাপ, সেটা এর থেকে পরিষ্কার।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সেলিং প্রেশারও রয়েছে
এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই সময় একনাগাড়ে সেল করছে। জানুয়ারির শুরুতেই প্রায় হাজার কোটি টাকার শেয়ার বেচে দিয়েছেন ফরেন ইনভেস্টররা। এর ফলেই ভারতীয় মার্কেটের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা কী করবেন বুঝতে পারছেন না।
কী করতে পারেন?
তবে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই। তৃতীয় কোয়ার্টারের রিপোর্টিং করবে ভারতীয় কোম্পানিরা। যার ফলে মার্কেটের সেন্টিমেন্ট বদলে যেতে পারে।