শনিবারই রাজ্যে নতুন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পালাবদলের পর বাংলায় শিল্প নিয়ে একের পর এক খবর সামনে আসছে। সবার আগে জানা গিয়েছিল মেগা প্রকল্প নিয়ে আসছে আমূল। হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করছে আমূল। তারপর থেকে একাধিক শিল্প সংস্থার কণর্ধারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এবার, বাংলায় বড়সড় বিনিয়োগ করতে চলেছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। আগামী ১১ জুলাই ডানকুনিতে কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। তারজন্য সংস্থার চেয়ারম্যান অশোক টোডি বুধবারই মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
সূত্রের খবর, লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের যে ব্যবসায়িক বোর্ড রয়েছে তারা ডানকুনির প্রকল্পের জন্য ৬০০ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তাতেই কারখানার সম্প্রসারণের ফলে নতুন করে প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা যুক্ত হবে। পুরনো জায়গা মিলে নতুন আয়তন হবে ২০ লক্ষ বর্গফুট। প্রসঙ্গত, হোসিয়ারি শিল্পে দেশের অন্যতম বড় সংস্থা লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
এদিকে বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের কারখানারও সম্প্রসারণ হতে চলেছে। যার সূচনা হবে আগামী ১৮ জুলাই। এই সূচনাতেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থাকতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলায় শিল্প ও কর্মসংস্থানের খরা কাটাতে বড়সড় লগ্নির ইঙ্গিত মিলেছে বিশ্বখ্যাত জাপানি সংস্থা মিৎসুবিশি কেমিক্যালের থেকেও। সংস্থাটি পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) সেক্টরের উৎপাদন ইউনিট তৈরিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বুধবার নবান্নে এসে রাজ্যের শিল্প ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন মিৎসুবিশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শীর্ষ কর্তারা। ঠিক ৩০ বছর পর বাংলায় এই জাপানি জায়ান্টের প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে করছে নবান্ন। সূত্রের খবর, সেমিকন্ডাক্টার ছাড়াও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। চলতি মাসেই মিৎসুবিশির শীর্ষকর্তারা রাজ্যে জায়গা দেখতে পারেন। তার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বহু শিল্প সংস্থাই। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে ভারী শিল্পের প্রস্তাব এসেছে রাজ্যের কাছে। কথা চলছে টাটা-সহ একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গেও। রাজ্যসরকারও শিল্প স্থাপনের উপযোগী পরিকাঠামো থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার বদল করছে। সব মিলিয়ে শিল্প-বান্ধব যে পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, তার জন্যই নয়া শিল্প থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্পের সম্প্রসারণে লগ্নির আশা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছে শিল্পমহলও।